প্রবৃদ্ধির শীর্ষে রুয়ান্ডা!

শফিকুর রহমান রয়েল

 

আইএমএফ ঘটা করেই বলে দিয়েছে যে, চলতি বছরে জিডিপি বৃদ্ধির হার বিবেচনায় শীর্ষস্থানটি দখল করবে আফিকার দেশ রোয়ান্ডা। ২০১৯ সালে তাদের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৭.৮ শতাংশ। ৭.৩% নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকবে বাংলাদেশ। তাদের ঘোষণা ও বর্ণনা অনুযায়ী একই হার সত্ত্বেও ভারত থাকবে এর পরের অবস্থানে, অর্থাত্ তৃতীয় স্থানে।

গবেষকরা দেখিয়েছেন ২০০০ থেকে ২০০৫, এই সময়ে মাথাপিছু ভোগ প্রবৃদ্ধি ও জিডিপি এগিয়েছিল প্রায় সমান তালে। কিন্তু ২৯৯৫ থেকে ২০১৩, এ সময়ে এ দুটিতে ব্যবধান গড়ে উঠে বেশ বড় আকারেরই। অথচ মাথাপিছু জিডিপি পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে, ওই সময়ে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৫.৫%।

টানা প্রায় দুই দশক যাবত্ দৃঢ় অর্থনৈকি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। এর পেছনে রুয়ান্ডা সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি বহুবিধ কারণ রয়েছে। প্রথমেই যে বিষয়টি উল্লেখ করতে হয় সেটি হচ্ছে, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে হালকা ও ভারি অবকাঠামো নির্মাণের পেছনে পর্যাপ্ত সময় ও সম্পদ বিনিয়োগ করেছে রোয়ান্ডা সরকার। শুরুতেই ভিশন ২০২০ এ সন্নিবেশিত প্রধান লক্ষ্যগুলো অর্জনের স্বার্থে সহায়ক প্রতিষ্ঠানসমূহ স্থাপন করা হয়। বহির্বিশ্বে দেশের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, বিদেশি বিনিয়োগ, পর্যটন উন্নয়ন, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন পরিকল্পনার সাহায্যার্থে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দ্য রোয়ান্ডা ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (ডিআরবি)। ভিশন ২০২০ অনুসারে রোয়ান্ডীয় সরকারের ওপর সুশাসন নিশ্চিতকরণের ভার চাপানো রয়েছে, যাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও জাতীয় অর্থনীতির জন্য মূল খাতসমূহের দুর্লভ সম্পদ বিস্তারের দক্ষতা। ২০১৭ সালের দুর্নীতি উপলব্ধির সূচকে রুয়ান্ডা হচ্ছে আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে তৃতীয় সর্বনিম্ন দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। তারা শুধুমাত্র ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করেই ক্ষান্ত থাকছে না, প্রায় পুরোপুরিভাবে কৃষিনির্ভর পরিচিতি থেকে বেরিয়ে আসার যথাযথ চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে। উন্নত হচ্ছে সেবাসমূহ; বিস্তৃত হচ্ছে ম্যানুফ্যাকচারিং খাত। বিশ্ব ব্যাংকের ২০১৯ সালের ডুয়িং বিজনেস সূচক বলছে রোয়ান্ডা হচ্ছে ব্যবসা করার সহজতর প্রশ্নে বিশ্বের ২৯তম আর শীর্ষ ত্রিশের মধ্যে থাকা একমাত্র নিম্ন আয়ের দেশ।

২০১৮ সালে আরডিবি নিবন্ধিত বিনিয়োগের পরিমাণ ২ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি। গত বছর বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রাই ছিল যেখানে ২ কোটি মার্কিন ডলার, সে জায়গায় ওই বছর ১৭৩টি প্রকল্পের বিনিয়োগ মূল্য দাঁড়ায় ২.০০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই বছরে নিবন্ধিত মোট বিনিয়োগের ২৬ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে রপ্তানি কেন্দ্রিক প্রকল্পসমূহ। ম্যানুফ্যাকচারিং, খনি খনন এবং কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের সম্মিলিত মোট প্রতিনিধিত্ব ৫৭ শতাংশ। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা অন্য খাতগুলো হচ্ছে পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা সেবাসমূহ ও আইসিটি। ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডার মাথাপিছু জিডিপি ছিল মাত্র ১৪৬ মার্কিন ডলার। ২০১৮ সালে তা পৌঁছে ৭৯১ মার্কিন ডলারে (আইএমএফ)।

টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও রোয়ান্ডা সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দারিদ্র্যের উচ্চ হার নামিয়ে আনা এবং জনসংখ্যার সর্ববৃহত্ অংশ তরুণদের জন্য কাজের সৃষ্টি করা। তাদের জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের দেওয়া তথ্যানুসারে ১৬ থেকে ৩০ বয়সী লোকের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ২৬.৫ শতাংশ। লেখাপড়া জানে তাদের ৮৫ শতাংশ লোক। ৫৩ শতাংশ লোকের বয়স ১৯ বছরের নিচে হলেও মোট জনসংখ্যার ১৮.৭ শতাংশ লোক বেকার। এ জনসংখ্যাগত বৈশিষ্ট্যকে সমস্যার বদলে সম্ভাবনা বানাতে গেলে অনেক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে হবে দেশটিকে। তাদের ৩৮ শতাংশ লোক এখনও দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে।

—টিআরটিওয়ার্ল্ড অনুসরণে