ব্যাংকের অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছিল ৪০ বছর আগে। সেই মামলায় ব্যাংক কর্মকর্তা এ এম শফিউল্লাহ ভুঁইয়ার সাজা হয়েছিল সাত বছর। সমপরিমাণ টাকা জরিমানাও করে আদালত। অনাদায়ে আরো এক বছর সাজা দেওয়া হয়। ৩১ বছর আগে দেওয়া সেই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিলও করেন। কিন্তু আপিল শুনানিতে অংশ না নেওয়ায় হাইকোর্ট তাকে পলাতক দেখিয়ে আপিল খারিজ করে দিয়েছে। মামলা দায়েরের পর দুটি আদালতে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও এখনো আদায় হয়নি জরিমানার সেই অর্ধ কোটি টাকা। পেরিয়ে গেছে ৪০ বছর।
এ প্রসঙ্গে দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান ইত্তেফাককে বলেন, সম্পত্তি জব্দ বা জরিমানা আদায়ের বিষয়টি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। রায় ঘোষণার পরই সম্পত্তি জব্দ বা জরিমানা আদায় করা সম্ভব হয় না। একমাত্র আসামি পলাতক থাকলে সেটা সম্ভব হয়। কিন্তু আসামির আপিল বিচারাধীন থাকলে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয়।
তিনি বলেন, আপিল খারিজ হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রায়ের অনুলিপি দেওয়া হলে তখন জরিমানা বা সম্পত্তি জব্দ করা সম্ভব। এজন্য দুদক ও রাষ্ট্রকে অনেক ভিজিলেন্স (সতর্ক) থাকতে হয়।
উত্তরা ব্যাংক রমনা শাখায় কর্মরত ছিলেন এ এম শফিউল্লাহ ভুঁইয়া। সৈয়দ আহমেদ নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে হিসাব খোলান তিনি। সেই হিসাবের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ৫০ লাখ ১৯ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত্ করেন শফিউল্লাহ। ১৯৮২ সালের এই ঘটনায় রমনা থানায় ঐ বছরই মামলা হয়। সেই মামলায় ১৯৯১ সালের ১৩ মে ঢাকার আদালত রায় দেয়। রায়ে শফিউল্লাহকে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ ১৯ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো এক বছর দণ্ড দেওয়া হয়। রায়ে বলা হয়, আসামির স্হাবর-অস্হাবর সম্পত্তি হতে এই জরিমানার টাকা আদায় করা যেতে পারে।
এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামি। সেই আপিল বিচারাধীন থাকাবস্হায় ১৯৯৪ সালের ৬ জানুয়ারি তিনি জামিন পান। পরবর্তীকালে জামিনের মেয়াদ বর্ধিত হয়। পরে জামিন প্রশ্নে জারিকৃত রুল খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। কিন্তু ৩১ বছরেও দুদক, রাষ্ট্র বা আসামি পক্ষ কেউ আপিল শুনানির উদ্যোগ নেয়নি। শুনানিকালে বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ নিয়ে অসন্তোতাষ প্রকাশ করে।
আদালত বলে, ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকের টাকা আত্মসাত্ করা হয়েছে। আপিল হলেও কোনো পক্ষই সেটা শুনানির উদ্যোগ নেয়নি। যদি উদ্যোগ নেওয়া হতো তাহলে এত বছর মামলাটি হাইকোর্টে পড়ে থাকত না। এজন্য বলে বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে!
দুদকের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী আসিফ হাসান। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, আসামি শফিউল্লাহ জীবিত আছেন। সেটা আদালতকে আমরা জানিয়েছি। কিন্তু আপিল শুনানিতে অংশ না নেওয়ায় উনাকে পলাতক দেখিয়ে আপিল খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায়ের অনুলিপি প্রকাশ পেলেই তাতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ থাকবে। যদি আসামি আত্মসমর্পণ না করে তাহলে গ্রেফতার করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ইত্তেফাক/বিএএফ