সেরা খল-অভিনেতা হিসেবে আবারো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করলেন দেশের শীর্ষ খল-অভিনেতা মিশা সওদাগর। প্রায় তিন যুগের ক্যারিয়ারে অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমার পাশাপাশি নানা পুরস্কার-সম্মানায় প্রাপ্তির ঝুলি পূর্ণ করছেন তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি, অভিনয়ে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিসহ ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে।
তৃতীয়বারের মতো খল-অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ায় অভিনন্দন। এমন একটি সম্মান পাওয়ার অনুভূতি কীভাবে ব্যক্ত করবেন?
হ্যাঁ, এবার আমার হ্যাট্রিক হলো! (হা হা হা)। অনুভূতি বলতে, নির্মাতা কাজী হায়াতের প্রতি আমার একটু দুর্বলতা ছিল। কারণ উনি মৌলিক গল্প ও কমার্শিয়াল সিনেমার সুপার-ডুপার হিট নির্মাতা। মৌলিক ও কমার্শিয়াল সিনেমার সাইনবোর্ড তিনি। যে কারণে আমার প্রত্যাশা ছিল তার সিনেমায় এমন একটি পুরস্কার আমি যেন পাই। তাছাড়া বছরের সেরা ব্যবসাসফল সিনেমায় পুরস্কার পাওয়াও আমার জন্য বিশেষ। নির্মাতা কাজী হায়াত্, প্রযোজক শাকিব খান ও ইকবালসহ জুরি বোর্ডের সকল সদস্য এবং দর্শকদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তাহলে কী ‘বীর’-এ অভিনয়ের সময় ভেবেছিলেন এই সিনেমাটির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাবেন?
অবশ্যই সেই ভাবনা আমার মনের ভেতর ছিল। সিনেমাটির স্ক্রিপ্ট হাতে পাওয়ার পরই আমার মনে হয়েছিল যদি ঠিকঠাকভাবে চরিত্রটি তুলে ধরতে পারি তবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভালো একজন প্রতিযোগী হতে পারব। কারণ সিনেমাটির মূল গল্পই তো আমাকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছিল।
দেশের শীর্ষ খল-অভিনেতা মিশা সওদাগর কী জীবনের সর্বোচ্চ কাজ বা সম্মান পেয়ে গেছেন মনে করছেন?
আরে না, না। এখনো জীবনের অনেক লক্ষ্য পূরণ বাকি রয়েছে। এখনো তো একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক পাওয়াই হলো না।
অন্যান্য কোন কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
এখন কাজ করছি ‘কমান্ডার’, ‘প্রেম প্রীতির বন্ধন’, ‘আগুন’, ‘পর্দার আড়ালে’, ‘এবার তোরা মানুষ হ’ ও ‘কুস্তিগীর’ সিনেমাগুলোর। এর বাইরেও আরো কয়েকটি সিনেমার কাজ হাতে রয়েছে। পাশাপাশি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘মিশন এক্সট্রিম (পার্ট টু’)’, ‘বিদ্রোহী’, ‘দিন:দ্য ডে’, ‘অমানুষ’, ‘বাহাদুর’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমা।
একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত ঝামেলা চলছেই। বিষয়টি নিয়ে আপনি কী মন্তব্য করবেন?
দেখুন, আমি ব্যক্তিগতভাবে বলবো, বিষয়টি নিয়ে আমি অতটা সিরিয়াস না। আপনারা জানেন নির্বাচনে হেরে গিয়েও যিনি জিতেছেন তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি, শপথ পাঠ করিয়েছি। জয়-পরাজয় তো থাকবেই। এটা নিয়ে ঝগড়া করার কিছু নেই। আমি নির্বাচন নিয়ে অসন্তুষ্ট না। কারণ শিল্পীরা আমাকে একাধিকবার নির্বাচিত করেছেন। তাছাড়া কাঞ্চন ভাইয়ের সম্মানে এবারের নির্বাচন আমি সেভাবে করিনি। কখনো চিন্তাও করিনি কাউকে ছোট করে নিজের অবস্হান পরিষ্কার করার।
আপনার প্যানেলের কেউ শপথ নেননি। আবার কেউ কেউ পদত্যাগও করছেন। এগুলো কী তারা আপনার সঙ্গে আলোচনা করেই করছেন?
না, এগুলো তাদের নিজেস্ব সিদ্ধান্ত। আমি নিজেও তাদের এই সিদ্ধান্েতর পক্ষে নই। আমি চাই সবাই মিলেমিশে কাজ করুক। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এখন তো আমরা সবাই এক প্যানেল। তাহলে একসঙ্গে কাজ করার সমস্যা কোথায়!
চলচ্চিত্র হলে ফিরলেও দর্শক ফেরেনি। দর্শকদের হলমুখী করতে কোন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন?
সহজ কথায়, আমরা দর্শকদের চাহিদা মেটাতে পারছি না। এখন দর্শকরা অনেক আপডেটেড। চাইলেই তাদের ভুলভাল জিনিস দিয়ে ভোলানো যাবে না। তারা ঘরে বসেই বিশ্বের সকল সিনেমা দেখতে পারেন। এখন কাজ করতে হলে অনেক গবেষণা করেই করতে হবে।
অনেকেই বলেন দেশে নায়ক-ভিলেন সংকট দিনদিন বাড়ছে। আপনি কী বলবেন?
আমার মনে হয় না দেশে নায়ক-ভিলেন সংকট রয়েছে। অনেক স্মার্ট ছেলে কাজ করছে। কিন্তু তাদের সেভাবে পরিচর্যা করা হচ্ছে না বা নিজেকে প্রকাশ করার ক্ষেত্র পাচ্ছে না। আমি যখন যাত্রা শুরু করি তখন হল ছিল ১২শ’, কিন্তু এখন সিনেমা রিলিজ হয় ২৫-৩০টি হলে। ফলে তারা পরিচিত হতে পারছে না।