স্মৃতির মিনারে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা

মহান শহিদ দিবসে ফুল দিয়ে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। মা, মাটি, দেশ আর মাতৃভাষার প্রতি বাঙালির অপরিসীম মমত্ববোধের চিরায়ত প্রকাশ ঘটেছে সারা দেশে। ভাষার জন্য আত্মোত্সর্গকারী শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের বেদিতে সারিবদ্ধভাবে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেছে শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ, যুবা, তরুণ-তরুণীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। লাখো মানুষের দেওয়া ফুলে ভরে ওঠে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। দিনব্যাপী শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মধ্য দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান সালাম, রফিক, জব্বার, বরকতসহ ভাষাশহিদদের প্রতি।

করোনা মহামারি উপেক্ষা করে ফুল হাতে শহিদ মিনারে ছুটে গিয়েছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ। তবে করোনা মহামারির কারণে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের আয়োজনটি এবার সীমিত পরিসরে করা হয়েছে। রবিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের প্রতিনিধিদল, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থার ব্যক্তিবর্গ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃষ্ঠা শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে সাধারণ মানুষের জন্য কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ খুলে দেওয়া হয়। এরপর সর্বস্তরের জনতা শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মহামারিকালেও মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য আত্মত্যাগকারীদের প্রতি ভালোবাসার কমতি ছিল না সাধারণ জনগণের। লাল-সাদা-হলুদ-বেগুনি বাহারি রঙের থোকা থোকা ফুলের স্তবকে ছেয়ে গেছে শহিদ মিনার।

হাতে ফাগুনে ফোটা রঙিন ফুলের স্তবক নিয়ে আর কণ্ঠে বিষাদমাখা চিরচেনা গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি...’ গেয়ে ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া সূর্যসন্তানদের স্মরণ করেছে কৃতজ্ঞ জাতি। মায়ের ভাষার মান রাখতে সেদিন রাজপথে সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। ভাষাসৈনিকদের মধ্যে যারা বেঁচে যান, পরবর্তী সময় তাদের অনেকেই প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। যারা জীবিত আছেন, বয়সের ভারে তারা ন্যুব্জ। তবে ভাষার জন্য তাদের সেই আত্মত্যাগ, সেই বীরত্বের কথা ভোলেনি নতুন প্রজন্ম, কৃতজ্ঞচিত্তে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি।

কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাত দেড়টার পর মানুষের ভিড় কমতে থাকে। পরে ভোর ৫টা থেকেই সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে শহিদ মিনারের দিকে আসতে শুরু করেন। কেউ ফুলের তোড়া, কেউবা একটি ফুল নিয়ে যান, আবার কারো হাতে একটি পতাকা শোভা পাচ্ছিল। সবার মুখেই ধ্বনিত হচ্ছিল একুশের সেই কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি’।

এবারে শহিদ মিনারে আগত ব্যক্তিদের মানতে হয় বিশেষ সতর্কতা। মাস্ক পরে এবং নির্দিষ্ট রুটম্যাপ অনুসরণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচ জন এবং ব্যক্তি পর্যায়ে দুজন করে শহিদ মিনারে ফুল দেওয়ার নির্দেশনা ছিল কর্তৃপক্ষের।