পেশাদারিত্বেই পার্থক্য দেখছেন সালাউদ্দিন

জান-ই-আলম

সাকিব আল হাসানের ‘গুরু’ হিসেবে মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের পরিচিতি ক্রিকেট বিশ্ব জুড়ে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের শীর্ষ ক্রিকেটারদের মধ্যে তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদেরও আস্থার আশ্রয় তিনি। ব্যাটিং নিয়ে কাজ, উন্নতির চেষ্টা, খারাপ সময় কাটিয়ে উঠার চেষ্টায় সবসময় তাদের নেটে ডাক পড়ে সালাউদ্দিনের।

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেও কোচ হিসেবে তিনি পরীক্ষিত। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছেন অনেকবার। সম্প্রতি প্রিয় শিষ্য সাকিবের আমন্ত্রণে ভারতের হায়দরাবাদে গিয়েছিলেন তিনি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের নেটে সাকিবের সঙ্গে কাজ করেছেন। দলটার টিম হোটেলে ১০ দিন ছিলেন এই কোচ।

গত ২২ এপ্রিল ঢাকায় ফিরেছেন সালাউদ্দিন। একান্ত আলাপে জাতীয় দলের সাবেক এই সহকারী কোচ বলেছেন, ভারত সফরে সমৃদ্ধ হয়েছে তার অভিজ্ঞতার ভান্ডার। বিপিএল, আইপিএলের মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য অনুভব করেছেন তিনি। আইপিএলের বিশেষত্ব বলতে সালাউদ্দিনের চোখে পড়েছে, টুর্নামেন্ট জুড়ে ক্রিকেটার, কর্মকর্তা, আয়োজকদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে ক্রিকেটারদের জন্য। তাতেই দলের ২২-২৩ নম্বর ক্রিকেটারও অনেক পরিণত।

হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে এক সপ্তাহ নিবিড়ভাবে সাকিবের সঙ্গে কাজ করেছেন সালাউদ্দিন। সকাল-বিকাল দুই বেলাও অনুশীলনে নেমেছিলেন তারা। হায়দরাবাদের অনুশীলনে কোচ টম মুডি, উপদেষ্টা ভিভিএস লক্ষ্মণসহ সবাই তাকে ভালোভাবেই স্বাগত জানিয়েছেন।

আইপিএলের একটা দলের সঙ্গে অবস্থানের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘খুব কাছ থেকে ওদেরকে দেখার সুযোগ হয়েছে। ওরা আসলে কিভাবে কী করে। আমার মনে হয়েছে অনেক পেশাদার ওরা। সুযোগ-সুবিধা প্রচুর। আমাদের এখানে দেখা যায়, টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগে সব দল এক মাঠে অনুশীলন শুরু করে একসাথে। ওদের তো এমন নয়। যখন নেট করে দেখা যায়, একসাথে ৬-৭টা উইকেটে নেট করে।’

উইলিয়ামসনদের প্রতি ম্যাচের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘আমরা ঢাকায় পাই দুইটা নেট। তাও দুই ঘণ্টার জন্য। কাছ থেকে দেখলাম যে, উইলিয়ামসন কিভাবে প্রস্তুতি নেয়। আমি দেখলাম কম না হলেও প্রায় তিন ঘণ্টা নেট করলো। একবার এই নেটে, পরে স্পিনে, পরে থ্রো ডাউন, আবার পেস বোলিং, আবার স্পিনে, মানে বারবার নেটে ঘুরে ঘুরে ব্যাটিং করছে।’

কোচ হিসেবে এই সফরে সালাউদ্দিন নিজে অনেক কিছু শিখেছেন। অকপটেই জানালেন, ‘আমার কাছে মনে হয় আমি এখানে অনেক কিছু শিখতে পারছি। বিশেষ করে টম মুডিকে খুব কাছে থেকে দেখছি। ও কিভাবে খেলোয়াড়দের পরিচালনা করে, সবাইকে ম্যানেজ করে। আর প্রত্যেকটা কোচিং স্টাফের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের জাতীয় দলের কম্পিউটার অ্যানালিস্টও (শ্রী) ছিল। ওর সাথেও অনেক কথা বলছি। ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গেও কথা বলার সুযোগ হয়েছে। ও সবসময় বলছে, তোমার কি লাগবে, তোমার কিছু লাগলে বলো আমাকে।’

প্রশ্নকর্তার ভূমিকায় থেকে টম মুডি, লক্ষ্মণের কাছে সালাউদ্দিনের জানতে চাওয়ার ছিল অনেক কিছু। তার কৌতূহলও মিটিয়েছেন হায়দরাবাদের কর্তারা।

আইপিএল-বিপিএলের পার্থক্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে অভিজ্ঞ এই কোচ বলেছেন, ‘আসলে আমার মনে হয় আকাশ-পাতাল পার্থক্য। আইপিএলে গোটা ভারত সম্পৃক্ত হয়ে যায়। মানুষের ম্যাচ দেখার জন্য যে আগ্রহ তা বলে বোঝানো যাবে না। আমাদের আসলে ওই সুযোগ-সুবিধাটা অনেক কম। দলগুলোর অনুশীলনের যে সুযোগ-সুবিধা আছে, এইগুলো আমরা কখনো দিতে পারবো কী না আমরা জানি না। এভাবে দেয়াটা আমাদের জন্য আসলেই খুব কঠিন।’

দুই টুর্নামেন্টের পেশাদারিত্বেই রয়েছে মূল পার্থক্য। সালাউদ্দিনের চোখে, ‘তাদের প্রতিটি কাজে যে পেশাদারি মনোভাব, সবকিছু সময়মতো হয়, খুঁত রাখার মতো জিনিস না। প্রত্যেকটা লোক যে যেই কাজের, সবাই খুব পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে। এটা একটা বড় পার্থক্য। আর প্রতিটা প্লেয়ারের যে ম্যাচিউরিটি এটা আমার খুব আশ্চর্য লেগেছে। এমনকি দলের ২২-২৩ নম্বর প্লেয়ারের যেই চিন্তা ধারা, এটা আসলে অনেক বড় পার্থক্য আছে আমাদের সাথে।’