ইউক্রেনে সামরিক শাসন জারি, পুতিন বিরোধী জোট গঠনের আহ্বান

ইউক্রেনে সামরিক শাসন জারির আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী নিয়ন্ত্রিত দনবাস অঞ্চলে রুশ সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেওয়ার পর জেলেনস্কি এ আহ্বান জানান। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদকে সামরিক শাসন জারির ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এক টুইটে জেলেনস্কি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনন, জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের কথা হয়েছে তার। এ সময় তিনি নেতাদের ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলা যুদ্ধ বন্ধ ও পুতিন বিরোধী জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি ইউক্রেনে সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্যের কথা জানানো হয়েছে। বিশ্বকে রাশিয়ার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধ বন্ধ করতে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যখন পুতিনকে আগ্রাসন বন্ধ করতে অনুনয় করলেন ঠিক একই সময় এক টেলিভিশন ভাষণে পুতিন ডনবাসে অভিযানের ঘোষণা দেন।

এই ঘোষণার পর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিবিসি’র সংবাদদাতা পল অ্যাডামস বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি জানিয়েছেন, কিছুক্ষণ আগে সেখানে তিনি পাঁচ থেকে ছয়টি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। এছাড়া কিয়েভ থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়া মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন’র একটি অনুষ্ঠানেও বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাওয়া গেছে।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিশ্চিত করেছেন যে, তার দেশে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করছে রাশিয়া। ইউক্রেনের অবকাঠামো ও সীমান্ত রক্ষীদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করছে রাশিয়া।

অন্যদিকে, এক বিবৃতিতে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইউক্রেনের কোনো শহরে হামলা করা হচ্ছে না। বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর অত্যাধুনিক অস্ত্রাগারে হামলা করা হচ্ছে।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এসবের মধ্যেই রাজধানী কিয়েভ ছাড়তে শুরু করেছে ইউক্রেনবাসী। এএফপির প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, কিয়েভের মানুষ ব্যাগ ও সুটকেস নিয়ে মেট্রো স্টেশনগুলোতে ভীড় করেছে। রাস্তাঘাট ফাঁকা ও এটিএম বুথগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।