যে কারণে বন্ধী জীবন কাটছে রাসেলের

যে বয়সে পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সেই বয়সে শিকলে বন্ধী জীবন কাটছে রাসেল (২০) নামে এক যুবকের।  

এক সময় রাসেলের স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হওয়া। ভাগ্যের কি পরিহাস সপ্তম শ্রেণিতে পড়ালেখা অবস্থায় তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। দিনদিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এক পর্যায়ে তার মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণের মাত্রা বাড়তে থাকে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে শিকল দিয়ে ঘরের মধ্যে বেঁধে রাখে।

রাসেল কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের শ্রীফলগাতি গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে। দিনমজুরী করে সংসার চালান আব্দুল মান্নান। সামান্য আয়ে চার সদস্যের পরিবারের ভরণ-পোষণ করতে তাকে হিমসিম খেতে হচ্ছে।

রাসেলকে স্থানীয় যাদুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেওয়া হয়। সেখান থেকে রাসেল ভালো ফল করে পিইসি পরীক্ষায় পাস করে। পরে তাকে যাদুরচর উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করে দেওয়া হয়। তখন থেকে রাসেলের অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তির পর তার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। একাধিক চিকিৎসককে দেখানো হলেও তার পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে তিনি রংপুরে এক মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসাধীন আছে। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছে না তার বাবা-মা। ভিটেমাটি ছাড়া আর কোনো জমি নেই আব্দুল হান্নানের। যতটুকু ছিল তা বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসায় ব্যয় করেছেন।

আব্দুল হান্নান জানান, ৭ বছর আগে হঠাৎ করে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে রাসেল।  সংসারের সব কিছু বিক্রি করে তার চিকিৎসা করাই। তার পরও ভালো হয়নি। কেউ কাছে গেলে মারপিট করে। তাই শিকল দিয়ে বেধে রেখেছি।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, ইতোমধ্যে রাসেলের নামে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তিনি সরকারি সুবিধা ভোগ করবে।