মৃত্যু
বিমল গুহ
মৃত্যু কারো কাম্য নয়
তবুও স্বাভাবিক মৃত্যু আমাদের কুঞ্চিত করে না;
কারণ আমরা জানি—মৃত্যু মানে
এক রসায়ন থেকে অন্য রসায়নে রূপান্তর
আদিশক্তি বিগব্যাং তখন স্পষ্ট হয় চোখে;
পৃথিবী তখন থেকে পদার্থের অণু নিয়ে পলায়নপর
খুঁজে ফেরে প্রাণবীজ রসায়ন-অণু,
মৃত্যু মানে সৃষ্টির আদি রূপান্তর সম্মিলিত যৌগরসায়ন!
খড়কুটোর সেপাই
রেজাউদ্দিন স্টালিন
বর্ণমালাদের তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে
শহরের মুখ থেকে গলগল করে
বেরিয়ে আসছে নেকড়েরা
গন্ধ শুঁকছে গলির শরীরে
অ্যালকোহলে ভেজানো
বিদেশি বাক্যের চাবুক ফালিফালি
করছে মাটির পুত্রদের
শহরের দরোজা জানলা দাবি করছে
বর্ণের মাথা
কবিরা শুনতে পায় গোঙানি
তারা বুকের মেঝের মধ্যে লুকিয়ে
ফ্যালে বর্ণদের আর ছাদে ছাদে
দাগিয়ে দেয় পতাকা
রাত্রির চোখের মধ্যে পুঁতে দেয়
উচ্চারণ
দিশেহারা অভিজাত বাক্যদের
ফিরতে হবে
কাদামাটির সৈন্যরা বর্ণদের পক্ষে
নেকড়ের প্রখর দাঁত আর অট্টহাসি
মিলিয়ে যাচ্ছে মাস্ত্তলে
আত্মগোপন ভেদ করে মাঠের ফাটল থেকে
কার্ডিনাল পয়েন্টে জড়ো হচ্ছে
খড়কুটোর সেপাই
এখনি অগণন বর্ণমালা কবিদের
হাতে সমর্পণ করবে তাদের ঐশ্বর্য
পত্রখরা
সাইয়্যিদ মঞ্জু
স্মার্টপর্দা খুলে
জেগে থাকে গুগল সভ্যতা
ফাঁকতালে হাসে—
প্রাপক প্রেরক মুখ
ডাকঘর খোলা তবে পত্রখরা দিনে।
এ সময়—
কর্মভাটা, ঘুমজীবী অলস-ডাকপিয়ন
সময় ঋতুর মতো, রোদ-বৃষ্টি শীত-গ্রীষ্ম গল্প
জৌলুস-যৌবন সূত্রগাথা
ফড়ফড়ে বলে গেল কালের হাওয়া।
পুনর্জন্মের আশায়, নির্জীব টেলিফোন
মরণ বরণ করে
ভাঙারির ঘরে
একদিন।