বিচারের শেষ ধাপে ৭ খুন মামলা

বিচারের শেষ ধাপে নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলা। পাঁচ বছরের মধ্যে বিচারের দুটি ধাপ পেরিয়ে এখন মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। ইতোমধ্যে মামলার পেপারবুক প্রস্তুত হয়েছে। কারাগার থেকে আপিল করেছেন মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা। এখন আসামি পক্ষ উদ্যোগ নিলে মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। তবে আসামি পক্ষের এক আইনজীবী জানিয়েছেন, আমাদের তো কিছু কৌশল রয়েছে। তাই সময়মতো আপিল শুনানির জন্য উত্থাপন করা হবে। আর নিহতদের স্বজনরা চান দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি।

এদিকে মামলাটির উপর রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ নজরদারি রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, সরকারের নির্দেশ রয়েছে দ্রুত আপিল শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার। নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাইকোর্টে মামলাটি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়। যার ফলে অপরাধ সংঘটনের কয়েক বছরের মধ্যে বিচারের দুটি ধাপ পেরিয়ে এখন শেষ ধাপে।

২০১৭ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট সাত খুন মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণা করে। ওই রায়ে মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত লে.কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ, কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ পনেরো জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয় ১১ জনকে। রায়ে বলা হয়, মানবতাবিরোধী ও মারাত্মক ধরনের এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কঠিন বার্তা দেওয়া প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ সংঘটনে উত্সাহিত না হন। কেউ যেন নিজেদেরকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে না করেন। আর দণ্ডিতরা যে ধরনের অপরাধ করেছেন তারপরও যদি তাদের উপযুক্ত সাজা না দেওয়া হয় তাহলে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা তৈরি হবে। রায়ে বলা হয়, নূর হোসেনের সঙ্গে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের বিবাদের জেরেই সাত খুনের ঘটনা ঘটে। এই খুনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে র্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন, এম এম রানা ও নূর হোসেন জড়িত।

হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আপিল করেছেন ১৩ আসামি। যাদের মধ্যে দশজন মৃত্যুদণ্ড ও তিনজন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আসামি পক্ষের অন্যতম আইনজীবী মো. আহসানউল্লাহ বলেন, ফাঁসির আসামিরা সরাসরি আপিল করেছেন। লিভ টু আপিল করেছেন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা। এসব আসামির লিভ টু আপিল গৃহীত হলে তখন ফাঁসির আসামিদের আপিলের সঙ্গে সেগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তবে কোনো আসামি যদি ইচ্ছে করে তাহলে আইনজীবীর মাধ্যমে আপিলও শুনানির জন্য আদালতে আবেদন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রসঙ্গত ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের ঘটনা প্রকাশের পরই নৃশংসতায় শিউরে উঠেছিল সারা দেশের মানুষ। এ ঘটনায় দুটি মামলা করে নিহতের স্বজনরা। ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। দণ্ডিতদের ২৫ জনই সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনী থেকে প্রেষণে র্যাব-১১ তে কর্মরত ছিলেন। পরে তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়।