সংঘাতের কেন্দ্র লুহানস্ক ও দোনেত্স্ক সম্পর্কে যা জানা গেছে

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে ইউক্রেনের একেবারে পূর্ব প্রান্তের দুটি এলাকা—দোনেত্স্ক ও লুহানস্ক। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুটি এলাকাকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছেন। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ২০১৪ সালে এই দুটি এলাকার বিশাল অংশের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে এবং রুশ সীমান্তবর্তী ঐ এলাকাকে দোনেত্স্ক পিপলস রিপাবলিক (ডিএনআর) এবং লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক (এলএনআর) বলে ঘোষণা করে। এই দুটি এলাকা অর্থনৈতিক এবং সামরিকভাবে পুরোপুরি রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। ইউক্রেন এই দুটি এলাকাকে উল্লেখ করে ‘সাময়িকভাবে অধিকৃত অঞ্চল’ হিসেবে।

ইউক্রেনের পৃথক হয়ে যাওয়া এই দুটি এলাকা ডনবাস নদী অববাহিকার অংশ এবং তারা ‘রুশ ডনবাস মতবাদে’ বিশ্বাসী। তারা মনে করে ডনবাস এলাকা রাশিয়ার ভূখণ্ড। কিন্তু এই দুটি এলাকাকে জাতিসংঘ ইউক্রেনের ভূখণ্ড হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। উনিশশ নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটার পর, এই দুটি এলাকা ইউক্রেনের অংশ হয়। কিন্তু পুতিন বিশ্বাস করেন, রাশিয়ান ও ইউক্রেনিয়ানরা ‘একই মানুষ’।

২০১৪ সালে রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ইউক্রেন জাতীয়তাবাদীদের মধ্যে সহিংস সংঘাত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলো ক্রমশ ইউক্রেনের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের একটা ঘনিষ্ঠ সংহতি গড়ে ওঠে। এই দুটি এলাকা আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার অংশ না হলেও ধারণা করা হয় ডনবাস এলাকার সাড়ে ৭ লাখ মানুষের রুশ পাসপোর্ট আছে এবং রাশিয়ার নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার আছে।

লুহানস্ক ও দোনেত্স্ক ২০২০ সালে ইউক্রেনীয় ভাষাকে তাদের রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে বর্জন করেছে। সেখানে সরকারি ভাষা একটাই, সেটা হলো রুশ ভাষা। স্থানীয় স্কুলগুলোতে ইউক্রেনীয় ভাষা এবং ইতিহাস পড়ানো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে পুতিন ইউক্রেনের এই দুটি অঞ্চল সম্পর্কে দীর্ঘ মেয়াদে কী ভাবছেন তা তিনি কখনই স্পষ্ট করেননি।