রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভার বাংলাবাজার দক্ষিণ ঠাকুরদাস গ্রাম এলাকায় মরা তিস্তা নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ হলে উপজেলা ও পৌর সদরের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি হতো। ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেত সাত গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। সুবিধার আওতায় আসত কৃষিপণ্যের পরিবহন, বাড়ত কর্মসংস্থান। কিন্তু এক বছর ধরে সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় যাতায়াতের এ সুবিধা অধরাই থেকে গেছে। নদীর বুকে এখন দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি পিলার।
কাউনিয়ার হারাগাছ পৌরসভার প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ ও ২০২০-২০২১ এ দুই অর্থবছরে হারাগাছ পৌরসভার উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে দুটি দরপত্রের মাধ্যমে নদীর দক্ষিণ ঠাকুরদাস গ্রাম এলাকায় ৭৬ মিটার দীর্ঘ পাইল সেতু নির্মাণ কাজ ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শুরু করা হয়।
মায়ারচর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা চরের মানুষ। নদীর ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন কষ্টে আমাদের দিন চলে। নদীর ওপরে সেতুটা হলে উৎপাদিত যে কোনো পণ্য সহজে আমরা জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে পারব। পাশাপাশি শিক্ষা-চিকিত্সাসহ সব ধরনের যোগাযোগ সহজ হতো। চর পল্লীমারী গ্রামের কৃষক রমজান আলী বলেন, সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় উৎপাদিত ধানসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য বিভিন্ন বাজারে নিতে পারছি না। বাধ্য হয়ে কম দামে ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে।
হারাগাছ পৌরসভার ঠাকুরদাস গ্রামের ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান বলেছেন, শুনেছি নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ায় সেতুটির নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে কাউনিয়ার হারাগাছ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মতুর্জা এলাহী বলেন, যেহেতু পৌর অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করা সম্ভব ছিল না। তাই উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে দুই অর্থবছরে পৃথক দরপত্রের মাধ্যমে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথম দরপত্রে কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক অসুস্থ থাকায় সেতুটির ২০ ভাগ নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছে। দ্বিতীয় দরপত্রে কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সেতুর বাকি কাজ শুরু করার তাগিদপত্র দেওয়া হয়েছে।
রংপুরের কাউনিয়ার হারাগাছ পৌরসভার মেয়র এরশাদুল হক জানান, সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। দ্বিতীয় দরপত্রের কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত কাজ শুরু না করলে কার্যাদেশ বাতিল করা হবে।