নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় হঠাৎ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৫ টার দিকে আকস্মিক ঝড় শুরু হলে গাছের ডাল মাথায় ভেঙ্গে পরে বীরেন্দ্র নাথ (৬০) নামে এক পথচারীর মৃত্যু হয়। এছাড়াও ঝরের কবলে পড়ে অনেকের ঘর বাড়ির টিনের চাল উড়ে গেছে।
শিলাবৃষ্টির কারণে অনেক অসহায় পরিবারের ঘরের টিন ছিদ্র হয়ে গেছে। শিলাবৃষ্টির আঘাতে মাটির সঙ্গে নুইয়ে পড়েছে উঠতি গম, মসুর ডাল,ভুট্টা সরিষা, পেয়াজ রসুনসহ বিভিন্ন ফসল ও সবজি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে হঠাৎ করে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। শিলাবৃষ্টিতে উঠতি ফসলের মধ্যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে তামাক,ভুট্টা,গম,সরিষাসহ বিভিন্ন ফসলের। তিনি আরও বলেন, শনিবার মাঠ পর্যায়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হেক্টর জমির তামাকক্ষেত শিলাবৃষ্টির আঘাতে তছনছ হয়ে গেছে, এছাড়াও ভুট্টা,গম, পেয়াজ,রসুনসহ অন্যান্য ফসলের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে ভুট্টাক্ষেত, গমক্ষেত, সরিষাক্ষেত সহ অন্যান্য ফসলের তেমন একটা ক্ষতির কোন সম্ভাবনা নেই। ভুট্টা ক্ষেতগুলো পাতা ছিঁড়ে গেলেও কয়েকদিনের মধ্যে সেগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। গমক্ষেত এবং সরিষার তেমন কোন ক্ষতি হবেনা আংশিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
মাগুড়া ইউনিয়নের সিঙ্গেরগাড়ী গ্রামের কৃষক, আমিনুল ইসলাম, আমার দুইবিঘা জমির তামাকক্ষেত সম্পূর্ণ শিলাবৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এ ধরনের শিলাবৃষ্টি এর আগে আমি দেখিনি।
বাহাগিলি ইউনিয়নের ভুট্টাচাষী শামিম হোসেন বাবু, ময়নুল মিয়া,আব্দুর রহিম জানান, হঠাৎ শিলাবৃষ্টির কারণে ভুট্টার পাতাগুলো ছিঁড়ে গেছে। তারা জানান, পরবর্তীতে ভুট্টার পাতা বাড়লেও ফলন কমতে পারে।