চার বছর জেমি সিডন্স দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ দলের হেড কোচ হিসেবে। ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরেই তাকে বিদায় জানিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দুঃখজনকভাবে বিদায় নিতে হলেও বাংলাদেশকে হূদয় থেকে কখনো ভুলতে দেননি। ভালোবাসার আবেশ দিয়ে বাংলাদেশকে ধরে রেখেছিলেন মনের গহিন কোণে। তারপরও বিসিবির কয়েক জন পরিচালক ও ক্রিকেটারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল সিডন্সের। ১১ বছর পর সেই অস্ট্রেলিয়ান সাবেক কোচই এখন টাইগারদের ব্যাটিং কোচ। বাংলাদেশে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে গতকাল (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রথম সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানালেন, বাংলাদেশ নিয়ে তার ভালোবাসার কথা।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সাগরিকার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ঐচ্ছিক অনুশীলন ছিল ওয়ানডে দলের। ঐচ্ছিক অনুশীলন থাকায় মূল দলের দুই ক্রিকেটার মাহমুদুল হাসান জয় এবং নাজমুল হোসেন শান্তই কেবল অনুশীলন করেছেন। এছাড়া ছিলেন টি-টোয়েন্টি দলের ৪ ক্রিকেটার-মুনিম শাহরিয়ার, শেখ মেহেদী হাসান, নাঈম শেখ ও শহিদুল ইসলাম।
অনুশীলনে নামার আগে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ব্যাটিং কোচ সিডন্স বলেছেন, ‘আমি কোচিং পেশার জন্য তৈরিই ছিলাম। বাংলাদেশের সঙ্গে সব সময়ই আমার যোগাযোগ ছিল। যোগাযোগ ছিল বিসিবির কিছু পরিচালক এবং ক্রিকেটারের সঙ্গে। এখানে ব্যাটিং পরামর্শকের একটা পোস্ট তৈরি হয়েছিল এইচপি এবং জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করার জন্য। তবে এটা পূর্ণকালীন সময়ের জন্য না কি খণ্ডকালীন, এ ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলাম না। এটা নিয়ে অবশ্য মাথাব্যাথা নেই। আমি গতবারই বাংলাদেশকে খুব ভালোবেসেছিলাম। কিছু মানুষ সেটা বিশ্বাস করেনি। গতবার তিন বছরের বেশি সময়টা খুব উপভোগ করেছি। আমি সবসময়ই ভাবতাম যে, আরেকটি সুযোগ আসবে। এখন তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে।’
সিডন্সের প্রথম দায়িত্ব ছিল আফগানিস্তান সিরিজ। অভিজ্ঞ এই কোচ নিজের প্রথম দায়িত্ব নিয়েই সাফল্য পেয়েছেন। আফগানদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ ইতিমধ্যে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে খুব কাছ থেকে বাংলাদেশের ব্যাটারদের নিয়ে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এখানে ৪-৫ জন ৬ ফুট উচ্চতা এবং ভালো মানের পেসার আছে, যারা ১৪০ এর বেশি গতিতে বল করে। এটা আমার কাছে দারুণ উপভোগ্যের। এখানে এখনো বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার আছে, যে কিনা খেললেই পারফরম করে। আমি ইতিমধ্যে কিছু তরুণ প্রতিভা দেখেছি চট্টগ্রামের ম্যাচ দুটিতে। তারা হলো—আফিফ, মিরাজ ও লিটন। তারা কোয়ালিটি, ক্ল্যাসি এবং মাথা ঠান্ডা রাখতে পারে এমন ক্রিকেটার। ওরা যত বেশি খেলবে, ততই বড় ম্যাচে পারফরমের যোগ্য হয়ে উঠবে। গত দুই ম্যাচ আমাদের জন্য চাপের ছিল। আমাদের জিততেই হতো। তরুণরা সামনে থেকে ম্যাচ জিতিয়েছে, যা দেখতে পারাটা দারুণ। অভিজ্ঞরা যে কোনো সময় পারফরম করবে কিন্তু তরুণদের তাদের সাহায্য করতে হবে। এখন বাংলাদেশ দলে এটাই হচ্ছে।’
বাংলাদেশ দলে প্রতিভাবানদের ছড়াছড়িতে সিডন্সের ওপর থেকে চাপ অনেকখানিই কমে গেছে। সংবাদ সম্মেলনে ৫৭ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলিয়ান মনে করেন, ‘যে প্রতিভা দেখছি, তাতে আমার ওপর থেকে চাপ অনেকটাই কমে গেছে। বড় ম্যাচে পারফরম করার মতো যোগ্যতা এদের আছে। লিটন টেস্টে সেই কাজ করে দেখিয়েছে। লিটনকে নিয়ে কাজ করার মতো খুব কম বিষয় আছে। প্রতি বোলারের বিপক্ষে যেন ভালো করতে পারে, এই জন্য কিছু কাজ করতে হবে। ওকে সেই অবস্থায় নিয়ে যাওয়াটা আমার চ্যালেঞ্জ। তামিম এবং বাকিরা সেরা পর্যায়ে উঠেছে, এখন আমরা চাই তরুণরা যেন ওদেরও ছাড়িয়ে যায়।’