গত কয়েকদিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এমন কাজ করেছেন যা গত কয়েক বছরে অর্জন করতে পারেনি ন্যাটো। সংস্থাটির অন্যতম সদস্য জার্মানি সামরিক খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েছে। যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর হয়নি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রুশ আগ্রাসনের জবাবে ইউক্রেনে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি। সেইসঙ্গে দেশটির সামরিক খাতে বাড়তি ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে।
বিবিসির মতে, এই সিদ্ধান্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির পররাষ্ট্রনীতিতে যা ‘বড় একটি মোড়’। কারণ, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের আগে সামরিক খাতে জার্মান সরকারের এরকম বরাদ্দ অকল্পনীয় ছিল। ঐতিহ্যগতভাবে জার্মানি তার পররাষ্ট্রনীতিতে সামরিক খাত থেকে কূটনৈতিক ও আলোচনাকে প্রাধান্য দেয়। ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির গভীর অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আছে। কিন্তু ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন যেন সব হিসেব পাল্টে দিলো।
এই ঘটনা জার্মান সরকার ও দেশটির জনগণকে স্তম্ভিত করেছে। প্রতিবাদে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে বিক্ষোভে নেমেছে লক্ষাধিক মানুষ। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্লিনের ব্রান্ডেনবুর্গ গেট থেকে ভিক্টরিকলাম পর্যন্ত দীর্ঘ রাজপথ লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে। সেখানে এখনো মানুষ আসছে।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তিন কিলোমিটার দূরের আলেকজান্ড্রাপ্লাৎজ পর্যন্ত পুরো এলাকাটাই মানুষে ভরে যাবে।
ইতোমধ্যে জার্মানি এই যুদ্ধে ইউক্রেনকে এক হাজার ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র ও ৫০০ স্টিংগার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সাহায্য করার কথা জানিয়েছে।
জার্মানির চান্সেলার ওলাফ শলৎজ দেশটির সামরিক নীতিতে বড় ধরনের এক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। শলৎজ পার্লামেন্টে এক জরুরি অধিবেশনে বলেছেন, এ বছর সরকার সামরিক সরঞ্জামের জন্য ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি অর্থ বিনিয়োগ করবে।
তিনি বলেছেন, এখন থেকে জার্মানির বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের দুই শতাংশের বেশি প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা হবে।