কারিয়ারের শুরু থেকেই নিজেকে ভিন্ন ভিন্ন লুকে দর্শকদের সামনে উপস্হাপন করছেন চিত্রনায়ক নিরব হোসেন। অভিনয় দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টায় কোনো কমতি রাখতে চান না তিনি। বর্তমানে ব্যস্ত তারকার তালিকায় থাকা এই অভিনেতা নিজের ব্যস্ততা, অভিনয় ভাবনাসহ সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল।
‘মার্কস ডেজার্ট কুইন’ শিরোনামের একটি রান্না বিষয়ক অনুষ্ঠানের বিচারক হিসেব যুক্ত হয়েছেন। অনুষ্ঠানটি প্রসঙ্গে জানতে চাই
এই অনুষ্ঠানটিতে আমি সেলিব্রেটি বিচারক হিসেবে কাজ করছি। আমরা প্রতি শুক্র ও শনিবার দেশের ৬৪ জেলায় ঘুরে রাঁধুনি খুঁজে বের করব। এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি জেলার বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছি। রান্নার বিচার করা খুব সহজ না। তবে চেষ্টা করছি। আগামী ৬ মাস এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। তারপর ঢাকায় গালা রাউন্ডে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচন করা হবে।
এর বাইরে অন্যান্য কাজের ব্যস্ততা?
মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে ‘জলকিরণ’ সিনেমার শুটিং শুরু করব। সম্প্রতি ‘অসম্ভব’, ‘ফিরে দেখা’, ‘ছায়াবৃক্ষ’সহ কয়েকটি সিনেমার কাজ শেষ করলাম। পাশাপাশি ‘ক্যাসিনো’, ফিরে দেখা’, ‘তিতুমীর’, ‘রৌদ্রছায়া’, ‘অমানুষ’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
‘জলকিরণ’ কোন প্রেক্ষাপটে নির্মিত হচ্ছে?
এখনই সিনেমাটির সবকিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে এটুকু বলবো, একটি সাইন্স ফিকশন গল্পে সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে।
অ্যাকশন ঘরানার পাশাপাশি গল্পনির্ভর কাজে কাজে মনোযোগী হওয়ার কী?
দেখুন, এখন মনোযোগ দিচ্ছি বিষয়টি তেমন না। আমি কিন্তু শুরু থেকে নিজেকে ভিন্ন ভিন্ন লুকেই হাজির করার চেষ্টা করছি। তাছাড়া এখন দর্শকরা এ ধরনের গল্প এবং লুক বেশি দেখতে চাচ্ছেন। সেই জায়গা থেকে সারাবিশ্বের পরিবর্তন এবং দর্শক চাহিদার কথা মাথায় রেখে কাজ করছি।
তাহলে কী বলতে চাচ্ছেন চলচ্চিত্রের ধারাবদল হচ্ছে?
অবশ্যই ধারাবদল হচ্ছে। পাশাপাশি দর্শকদের রুচিরও পরিবর্তন হচ্ছে। তবে কতটা পরিবর্তন হয়েছে সেটা দর্শকরা হলে গেলেই আরো স্পষ্ট হবে। এই পরিবর্তন আমাদের জন্য অনেক ভালো একটি দিক। এতে শিল্পীদের নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
গল্পনির্ভর কাজ বেশি হওয়ায় হিরো-হিরোইন নির্ভরতা কমবে মনে করছেন?
দেখুন, প্রতিটি গল্পেই হিরো-হিরোইন থাকে। গল্পটি যদি ভালো হয় তাহলে হিরো-হিরোইনের কাজটিও ভালো হয়। আবার হিরো-হিরোইনের চরিত্রটি ভালো হলে গল্পটিও ফুটে ওঠে। তবে অভিনয় যে-ই করুক দিনশেষে দর্শকরা একটি ভালো গল্প দেখতে চায় এবং মনে রাখে।
ওটিটিতে অনেকেই কাজ শুরু করেছেন। নতুন এই মাধ্যমটি নিয়ে নিরবের প্রত্যাশা ও পরিকল্পনা কী?
এখন ওটিটির যুগ চলছে। মাধ্যমটি নিঃসন্দেহে ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করেছে। ওটিটিতে চলচ্চিত্র মুক্তি দিলে মানুষ নিজের মতো করে সময় বের করে মোবাইলে দেখতে পারেন। ওটিটির কারণে সিনেমাটি দর্শকদের কাছে বেশি পৌঁছাচ্ছে। আমিও ভালো গল্প চরিত্র পেলে নিশ্চয় ওটিটিতে কাজ করব।
তাহলে বলতে চাচ্ছেন হলের পাশাপাশি ওটিটিতে মুক্তি দিলে চলচ্চিত্র সংকট কমবে?
নিশ্চয় কমবে। তবে হলের বসে সিনেমা দেখার অনুভূতি তো মোবাইলে পাওয়া যাবে না। হলের সঙ্গে ওটিটিতে মুক্তি দিলে যারা হলে যাওয়ার সময় পাচ্ছেন না তারা সিনেমাটি দেখার সুযোগ পাবেন। তাই আমি মনে করি, ওটিটি সংকট কমাতে পারে, কিন্তু দূর করতে পারবে না।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির একটি পদ নিয়ে এখনো জটিলতা কাটছে না। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ানো প্রসঙ্গে কী মন্তব্য করবেন?
আমি কখনো প্রত্যাশা করিনি বিষয়টি এতদূর পর্যন্ত গড়াবে। চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আমাদের কাজ এবং নির্বাচন নিয়ে দারুণ আগ্রহ ছিল। কিন্তু এত কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি বা জলঘোলা হওয়ায় তাদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।