ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌর এলাকার নওদাগ্রামে ইমরান (২৬) নামে এক যুবকের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মা ও নানি নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন ওই গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের স্ত্রী শামসুন্নাহার ও মেয়ে মর্জিনা খাতুন। মহেশপুর থানার ওসি রাশেদুল আলম জানান, রাতে ইমরান তার মায়ের কাছে টাকা চায়। টাকা না দিলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে মা ও নানিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে চিত্কার শুনে আশেপাশের লোকজন ওই বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান দুইজনই ঘরের মেঝেতে পড়ে আছেন। ইমরান ওই সময়েই পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার ভোররাতে দুইজনকে যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিত্সক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি জানান, মহেশপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের কারিগরি বিষয়ের শিক্ষক মর্জিনা বেগম তার সন্তান ইমরান ও মা শামসুন্নাহারকে নিয়ে বসবাস করতেন। ছেলে ইমরান ছিল মানসিক রোগী। বিভিন্ন সময়ে সে তার মা ও নানিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। ২০০৪ সালে তার মায়ের ডিভোর্স হয়। সে বছরই ইমরান তার দাদাকে মারধর করে। পরবর্তীতে তাকে দুইদফা পাবনা মানসিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিত্সা দেওয়া হয়।
এদিকে এলাকাবাসী বলছে, ইমরান মাদকাসক্ত। টাকার জন্য প্রায়ই সে তার মাকে মারধর করতো। বৃহস্পতিবার রাতেও সে তার মায়ের কাছে নেশা করার জন্য টাকা চেয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় ঘটনাটি ঘটিয়েছে ইমরান।