বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল ‘কট্টর আওয়ামী লীগার।’ বিনা ভোটে ক্ষমতায় থাকার জন্য আওয়ামী সরকার আবারও তাদের একান্ত অনুগত ও আওয়ামী ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষিত দলীয় আমলাদের দিয়ে তথাকথিত নির্বাচন কমিশন সাজিয়েছে। কাজী হাবিবুল আউয়াল এখন প্রভুভক্তির চরম পরাকাষ্ঠা দেখানোর দৌড় শুরু করবেন। চরম বিতর্কিত সাবেক আমলা কাজী হাবিবুল আউয়াল শেখ হাসিনার বড় পছন্দের। যখনই কোনো সাংবিধানিক পদে নিয়োগের সময় এসেছে,প্রতিটা ক্ষেত্রেই কাজী হাবিবুল আউয়ালকে তিনি বিবেচনা করেছেন। কারণ একটাই-হাবিবুল আউয়াল একজন কট্টর আওয়ামী লীগার।
বিএনপির বক্তব্য স্পষ্ট উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আওয়ামী আমলে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংসকারী নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিএনপির কোনো আগ্রহ নেই। এই মুহূর্তে বিএনপির একমাত্র এজেন্ডা, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার। আওয়ামী-বাকশালীদের সিইসি ও ইসি নিয়োগ নাটক তামাশা বন্ধ করেন। সময় থাকতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিন। সামনে উত্তাল আন্দোলনে ভেসে যাওয়ার আগেই বাঁচতে চাইলে জনগণের কাছে আত্মসমর্পণ করুন।
সোমবার নতুন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণের দিন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী একথা বলেন।
আইন সচিব পদে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নিয়োগের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, উনি আইন মন্ত্রণালয়ের লিগ্যাল অ্যান্ড ড্রাফটিং শাখার অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। এটি প্রশাসনিক ক্যাডারের একটি পদ। ওই পদ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে নিয়োগ পাওয়ার নিয়ম না থাকলেও শেখ হাসিনার বিশেষ অনুগ্রহে সেটি লাভ করেছিলেন তিনি। আইন সচিবের পদটি বিচার বিভাগীয় পদ। এই কারণে পদোন্নতি বিধিমালা-২০০২ অনুযায়ী হাই কোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ তার নিয়োগ অবৈধ বলে রায় দেয়।
নতুন সিইসি সম্পর্কে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, যিনি কর্মজীবনে আইন মানেননি, সর্বোচ্চ আদালতের উভয় বিভাগ থেকেই যার কর্মজীবন অবৈধ ঘোষণা হয়েছে। যিনি বিচারকদের পুলিশ দিয়ে লাঞ্ছিত করেছেন, যিনি সংসদীয় কমিটির কাছে দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে পরিত্রাণ পেয়েছেন, যিনি অবৈধ নিয়োগের পরও একের পর এক মন্ত্রণালয়ের সচিব হয়েছেন, বিশেষ ব্যবস্থায় পিআরএল বাতিল করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হয়েছেন, তিনি কতখানি এই সরকারের আপনজন হতে পারেন, এই তথ্যগুলো সেটি প্রমাণ করে।
রিজভী বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম, নির্বাচন কমিশন কাদের দিয়ে করবে, সেই বিশ্বস্ত তালিকা চূড়ান্ত করে রেখেছিলেন শেখ হাসিনা। সার্চ কমিটি ছিল একটা আইওয়াশ মাত্র। কাজেই আওয়ামী-বাকশালীদের সিইসি ও ইসি নিয়োগ করা আরেক নীলনকশার নির্বাচন বাস্তবায়নের জন্য।
‘বাংলাদেশ এখন একটি তলাবিহীন ঝুড়ি’:
‘বাংলাদেশ এখন একটি তলাবিহীন ঝুড়ি’ উল্লেখ রিজভী বলেন, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জার্মানির মিউনিখে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে অর্থের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন আহাজারি করেছেন। জার্মানিতে বিভিন্ন দেশের নেতা-মন্ত্রীদের প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে টাকা নেই, টেকনোলজি নেই।অর্থাৎ বাংলাদেশ এখন একটি তলাবিহীন ঝুড়ি। তো গালভরা বুলি,ফোর জি, ফাইভ জি বলেন তারা, এত গালভরা বক্তব্য রাখেন, এত বুলি আওড়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন যে, টেকনোলজি নাই। তাহলে ওই টেকনোলজি গেল কোথায়, ওই প্রযুক্তি গেল কোথায়? শুধু ফাঁকা কথা দিয়ে,চাপাবাজি দিয়ে তারা জনগণকে ভোলানোর চেষ্টা করে।এ সরকারের মন্ত্রীরা দেশে বসে উন্নয়নের মহাপ্লাবনের গল্প শোনায়, আবার বিদেশে গিয়ে টাকা নেই বলে হাত পাতে। এদের অবস্থা হলো ওপরে উন্নয়নের বিশাল সাইনবোর্ড টাঙিয়ে তার ছায়ায় বসে ভিক্ষা করে। কুমিল্লার লাকসামে আওয়ামী লীগের দুই কাউন্সিলরের’ নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও তাদের বাড়ি-ঘর-ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনার নিন্দা জানান রিজভী।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করীম শাহিন ও মুনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
‘ভোট তো ইসি করবে না, করবেন ডিসি-এসপিরা’:
এদিকে সোমবার মৎস্যজীবী দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতাদের নিয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থাকতে নতুন যে কমিশন গঠন করা হয়েছে সেটা তো প্রধানমন্ত্রীর কিচেন কমিশন। এর বাইরে তাদের কোনো ভূমিকা থাকবে না। কারণ ভোট তো তারা করবেন না, ভোট করবেন ডিসি-এসপিরা।