কাঁকড়া ধরার পাস না থাকলেও প্রতিদিন বুড়িগোয়ালিনী খেয়াঘাট এলাকা, কলবাড়ি বাজার, নওয়াবেকী বাজার, ভেটখালি ও হরিনগর বাজারে লাখ লাখ টাকার কাঁকড়া বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। কাঁকড়ার প্রজনন বৃদ্ধির জন্য সরকারিভাবে দুই মাস সুন্দরবনসহ সব নদনদীতে কাঁকড়া ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু অসাধু বন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সুন্দরবন থেকে প্রতিদিন শতশত মণ কাঁকড়া ধরে নিয়ে আসছে অসাধু কাঁকড়াজেলেরা। এসব কাঁকড়া প্রকাশ্যে বাজারগুলোতে বিক্রি করা হলেও এব্যাপারে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এতে কাঁকড়ার প্রজনন ধ্বংস হয়ে এক সময় রপ্তানিযোগ্য কাঁকড়া বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
জানা গেছে, সুন্দরবনে ১৯টি নিষিদ্ধ খালে জেলেরা অবাধে প্রবেশ করে ডিমওয়ালা কাঁকড়ার আস্তানায় হানা দিয়ে কাঁকড়া ধরছে। সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম সুন্দরবনের বুড়িগোয়ালিনী, কদমতলা, কবাদক ও কৈখালী চারটি স্টেশনের কিছু লোকের সাহায্যে জেলেরা মাছ ধরার পাশ নিয়ে সুন্দরবনের নিষিদ্ধ খালগুলোতে অবাধে প্রবেশ করে ডিমওয়ালা কাঁকড়া ধরছেন। এদিকে, চলতি সপ্তাহে শতাধিক জেলেকে এক সপ্তাহের জন্য সাদা মাছ ধরার পাস দিয়েছে বন-বিভাগ। তবে অধিকাংশ সময়ই জেলেদের মাছের পাসধারী নৌকায় কাঁকড়া ধরার উপকরণ দোন, জালতি, আটল, কুচেমাছ সঙ্গে নিয়ে বনের মধ্যে ঢুকতে দেখা গেছে।
জেলেরা মাছ ধরার নামে কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম নিয়ে বনে যাওয়ার সময় সোরা গ্রামের আব্দুস সাত্তার, খালেক, শামছুর বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের আব্দুল হক, হালিম, হরিনগর গ্রামের রবিন্দ্র, বিকাশ, ইছাকসহ একাধিক জেলে জানান, কাঁকড়া ধরার পাস না দেওয়ায় মাছ ধরার পাস নিয়ে বনে যেতে হচ্ছে। এজন্য টাকাও দিতে হচ্ছে বলে জানান। এছাড়া সুন্দরবনের আশপাশ এলাকায় মাছ ও কাঁকড়া ধরার জন্য অফিস থেকে চুক্তি করলে বনে যেতে পাস লাগে না বলেও জানান জেলেরা। স্টেশন অফিসার নুরুল আলম, জিয়াউর রহমান, নাসির উদ্দীন ও হারুনুর রশিদ জেলেদের কাঁকড়া ধরার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, সুন্দরবনের নিষিদ্ধ এলাকা থেকে প্রায় সময় জেলেদের কাঁকড়াসহ তাদের আটক করে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) এম এ হাসান বলেন, আমরা রাস্তায় কাঁকড়া আটক করতে পারি না। আর জেলেরা মাছের পাশ নিয়ে বনের ভেতরে গিয়ে মাছ না কাঁকড়া ধরছে জানি না। তবে বন-বিভাগের কোনো কর্মকর্তার ও কর্মচারির বিরুদ্ধে জেলেদের কাঁকড়া ধরায় সহায়তা করার অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্যামনগর থানার ওসি কাজী ওয়াহিদ মুর্শেদ বলেন, ‘অবৈধভাবে সুন্দরবন থেকে যারা কাঁকড়া ধরে নিয়ে আসছে বন বিভাগ পুলিশের সহযোগিতা চাইলে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।’