নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, আপনারা একটু সাহসী হোন, নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখুন। দেখবেন কোনো বাধাই বাধা না। বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের আলী আহাম্মদ চুনকা মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ইউনিলিভার আয়োজিত ‘টেকসহ উন্নয়নে নারী’-পরিচ্ছন্ন নারায়ণগঞ্জের অঙ্গীকারে আমরা ঐক্যবদ্ধ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আপনার অভিধান থেকে ‘না’ শব্দটা উঠিয়ে দিন। সেটা যত কঠিন কাজই হোক না কেন, আমরা যেন সেই কাজটা করতে পারি। তিনি বলেন, সমঝোতার মাধ্যমে কাজ করা অনেক বেশি সহজ। মানুষের চাওয়াকে প্রাধান্য দিতে হবে, আর সেই চাওয়া যদি যৌক্তিক হয় তাহলে সেটি মেনে নিতে হবে।
আইভী আরও বলেন, নারী জাগরণ, নারীর ক্ষমতায়, নারীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। দেশের সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে তিনি নারীদের কাজ করার সুযোগ করে দেন নাই। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় সরকারের যে আইন করেছিলেন, সেখানে তিনি নারীদের জন্য সংরক্ষিত ওয়ার্ড করেছিলেন। পরবর্তীতে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন করে দিয়েছিলেন। সংরক্ষিত ওয়ার্ড ও আসনের মধ্যদিয়ে প্রধানমন্ত্রী নারীদের কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন।
আইভী বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে যখন আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়েছিল তখন এই শহরে অনেকেই ছিলেন না। পালিয়ে গিয়েছিলেন। নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যখন কেউ ছিল না তখন এসে আমি নির্বাচন করে জয়ী হয়েছিলাম। ওই সময় আমার সঙ্গে ভোট চাইতেও অনেকে ভয় পেতেন। এরপর আমার আর নির্বাচন করার ইচ্ছা ছিল না। ইচ্ছে ছিল স্বামী-সন্তানদের কাছে নিউজিল্যান্ড চলে যাব। কিন্তু ২০১১ এর নির্বাচনের আগে আমার মা আমাকে বলেছেন, তোমাকে নির্বাচন করতে হবে। না করলে এই শহরের মানুষ ভাববে তুমি একজনকে ভয় পেয়ে চলে গেছ। এই নারায়ণগঞ্জকে আর ভয়ের শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।
তিনি বলেন, অনেকেই আমাকে হিরো বলেন। আমি বলবো হিরো যদি বলতে হয় তাহলে আমাকে নয়, নারায়ণগঞ্জের মানুষকে বলুন। কারণ নারায়ণগঞ্জের মানুষ যে কত বেশি সাহসী, শুধু তাদের জাগিয়ে উঠানোর দরকার ছিল। এই নারায়ণগঞ্জের মানুষই আমাকে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। তারা চেয়েছিল কেউ একজন পাশে এসে দাঁড়াক। আমি আমার জীবন উৎসর্গ করে দিয়ে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস প্রসঙ্গে আইভী বলেন, ৮ মার্চ নারী দিবস। ছাত্র জীবনে এটা বুঝতাম না। কারণ ওই সময় দেশে সেভাবে নারী দিবস পালিত হতো না। তবে সোভিয়েত ইউনিয়নে লেখাপড়া করতে গিয়ে সেখানেই নারী দিবস সম্পর্কে জেনেছি ও বুঝেছি।এদিকে সভার আগে ইউনিলিভারের নারী কর্মীরা নগরের শেখ রাসেল পার্কে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৫ কেজি পলিথিন সংগ্রহ করে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইউনিলিভার বাংলাদেশের হিউম্যান রিসোর্স ডিরেক্টর সাকসি হান্ডা, ইউএনডিপির বাংলাদেশের প্রকল্প পরিচালক ইউগেস প্রাদানাম, ইউনিলিভারের হেড অব কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স শামীমা আক্তার, নাসিকের সংরক্ষিত ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাওন অংকন এবং টাউন ফেডারেশনের নেত্রী সালমা সুলতানা।