অর্থনৈতিক অধিকারে পিছিয়ে বাংলাদেশের নারীরা 

অর্থনৈতিক সুযোগে পুরুষের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বিশ্বের বহু দেশের নারীরা। এবার করোনার কারণে নারীদের সুযোগ আরো সীমিত হয়েছে। বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান বিশ্বে প্রায় ২৪০ কোটি কর্মক্ষম নারীর পুরুষের সমান অধিকার নেই। ‘নারী, ব্যবসা এবং আইন-২০২২’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত বিশ্বব্যাংকের সূচকে বাংলাদেশের স্কোর গতবারের মতো পেছনের দিকে। বাংলাদেশের স্কোর ১০০-এর মধ্যে মাত্র ৪৯ দশমিক ৪ এবং দেশগুলোর মধ্যে অবস্থান ১৭৩তম। আফগানিস্তান বাদে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের চেয়ে পিছিয়ে। স্কোর অনুযায়ী বাংলাদেশে পুরুষেরা যে অর্থনৈতিক সুযোগসুবিধা লাভ করছেন, নারীরা পাচ্ছেন তার তুলনায় অর্ধেক। অবশ্য গত বছরের প্রতিবেদনেও এ চিত্র পাওয়া গেছে।

এবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান বিশ্বে প্রায় ২৪০ কোটি কর্মক্ষম নারীর পুরুষের সমান অধিকার নেই। ১৭৮টি দেশে অর্থনীতিতে নারীর পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণের পথে আইনি বাধা রয়েছে। ৮৬টি দেশে নারীর কর্মসংস্থানে আইনি বাধা রয়েছে। ৯৫টি দেশ একই কাজের জন্য নারীকে সমান মজুরির নিশ্চয়তা দেয় না। মোট আটটি নির্দেশকের ওপর ৩৫টি প্রশ্নের ভিত্তিতে এ বিষয়ে স্কোর নির্ণয় করা হয়েছে। এগুলো হলো—চলাচলের অধিকার, কর্মক্ষেত্র, মজুরি, বিয়ে, মাতৃত্ব/পিতৃত্ব, উদ্যোগ, সম্পত্তি এবং পেনশন। শুধু গতিশীলতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ১০০।

অর্থাৎ চলাচলে স্বাধীনতায় বাংলাদেশের নারীরা পূর্ণ স্বাধীন। তবে মজুরি বা বেতন এবং পেনশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ২৫। নারীদের পেনশন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তি নিতান্তই কম হওয়ায় বাংলাদেশের স্কোর অনেক পেছনে রয়েছে। সূচকে বিবাহের অধিকারে নারীদের স্কোর ৬০। উদ্যোক্তা হওয়ার সূচকে বাংলাদেশের নারীদের স্বাধীনতা তুলনামূলক বেশি, স্কোর ৭৫। তবে মায়েদের কর্তৃ‌ত্বের সূচকে নারীদের স্কোর মাত্র ২০।