ইউক্রেন-রাশিয়া ইস্যুতে আঁটসাঁটো অবস্থায় চীন

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা রাষ্ট্রগুলো। এতে অর্থনৈতিক হুমকিতে পড়তে পারে রাশিয়া। এমন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণে চীনের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে রুশ সরকার বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফেদেরিকো গুইলানি।

বিশ্লেষদের মতে, ইউক্রেন ইস্যুতেই দেখা যাবে যে, রাশিয়া ও চীন পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা সত্য কি না।

ফেদেরিকো গুইলানি বলেন, চলমান ইউক্রেন সংকটে তথাকথিত বহু বন্ধু রাষ্ট্রের কার্যক্রম দেখেছে বিশ্ববাসী। রাশিয়া যখন ইউক্রেনে অভিযান শুরু করলো তখন চীনের ওপর ভরসা করেই করেছে। কারণ চীন হলো রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদ্বার। ২০২০ সালে দুই দেশ ১১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য করেছে। কিন্তু ইউক্রেন ইস্যুতে মস্কোকে সমর্থন প্রদানে চীনা সরকারকে ইতস্তত দেখাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন সংকটে খুব আঁটসাঁটো পরিস্থিতিতে আছে চীনা নেতারা। গত মাসে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়েং ওয়েনবিন বলেন, প্রত্যেকটি স্বাধীন দেশের ভূখণ্ডকে সম্মান ও এর রক্ষা করতে হবে। একটি দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে অন্য দেশের ক্ষতি সাধনের বিষয়টি বিশ্বাস করে না চীন।

এর কিছুদিন পর গত ১ মার্চ চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুবেলার সঙ্গে ফোনালাপ করেন। এসময় ইউক্রেন সংকট নিয়ে দেশটির নাগরিকদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওয়াং ই। অস্ত্রবিরতির বিষয়ে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান তিনি।

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতিতে পড়তে পারে দেশটি। এই সংকট নিরসনে খুব শিগগির কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না চীন, বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, রাশিয়াকে সাহায্য করবে চীন। তবে তা খুব দ্রুত হচ্ছে না। সম্ভবত দীর্ঘ মেয়াদে গ্যাস ও অন্যান্য পণ্য আমদানি করা হতে পারে।