ফেনী পৌরসভার দখলে সরকারি লেক!

ফেনী পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সংসদ সদস্য মরহুম খাজা আহাম্মদের নামে ফেনী শহরতলির দাউদপুর এলাকায় সরকারি বিশাল লেকটি তৎকালীন পৌর মেয়র ও তার পরিষদের কয়েক জন কাউন্সিলর অবৈধভাবে দখল করে ভরাট করেছিলেন এমন অভিযোগ রয়েছে। সেখানে পৌরসভার অর্থায়নে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে শতাধিক দোকানঘর নির্মাণ করে এসব ঘর ভাড়া দিয়ে কয়েক কোটি টাকা জামানত আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। গত বছর জেলা প্রশাসন লেকসংলগ্ন ড্রেনের ওপর নির্মিত ৩৫টি অবৈধ দোকানঘর উচ্ছেদ করলেও ভরাট লেকের ওপর আরো শখানেক দোকানঘর এখনো রয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খাজা আহাম্মদ লেকটির মালিক ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং কিছু অংশ ফেনী রাজস্ব বিভাগের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ফেনী পৌরসভার দায়িত্বে থাকাকালীন সাবেক মেয়র গংরা শুধু ঐতিহ্যবাহী খাজা আহাম্মদ লেক নয়, তারা শহরের পানি নিষ্কাশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাগলিছড়া খালের ওপরও অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভাগের আরো কয়েক জন কর্মকর্তা জানান, এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য ফেনী জেলা প্রশাসক পৌরসভাসহ দোকানমালিকদের বেশ কয়েকবার নোটিশ প্রদান করলেও প্রভাবশালীদের কারণে দখলদারদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছে না।

২০২১ সালের ডিসেম্বরের দিকে সাবেক মেয়রের আমলে শহরের দাউদপুর চৌধুরীবাড়ি এলাকায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত পাকা ড্রেনের ওপর পৌরসভার কয়েক জন কাউন্সিলর অবৈধভাবে ৩৫টি দোকানঘর নির্মাণ করে সেগুলো ভাড়া দেন এবং দোকান মালিকদের কাছ থেকে জামানত হিসেবে প্রায় ২ কোটি টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দোকানগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা থেকে বারবার পৌরসভাকে তাগাদা দেওয়ার পরও তারা কর্ণপাত না করায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উক্ত ৩৫টি দোকানঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আরো শতাধিক দোকান উচ্ছেদের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

এ ব্যাপারে বর্তমান মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এবং আমার পরিষদ পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় এসেছি। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার মাধ্যমে পৌরসভা পরিচালনা করে যাব। সরকারি কোনো জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে পৌরসভার নাম ভাঙিয়ে কোনো অপকর্ম আমি ও আমার পরিষদ বরদাস্ত করবে না। সাবেক মেয়র ও তার পরিষদ ক্ষমতায় এসে যেসব দুর্নীতি ও অপকর্ম করেছেন, ফেনী পৌরসভার বর্তমান পরিষদ এর দায়ভার গ্রহণ করবে না।’

তিনি বলেন, তার পরিষদ সাবেক মেয়র ও তার পরিষদের দুর্নীতি ও অপকর্মের ব্যাপারে ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছে। ফেনী পৌর এলাকায় যত অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, তা উচ্ছেদের ব্যাপারে ফেনী জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে দোকান মালিকেরা জানান, তারা অনেকেই স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে, কেউ জমি বন্ধক দিয়ে, আবার অনেকে স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এসব দোকানঘরের জামানত হিসেবে কয়েক কোটি টাকা সাবেক মেয়র ও তার পরিষদকে দিয়েছিলেন। এখন উচ্ছেদের নোটিশের কারণে শ-খানেক দোকানের মালিক আতঙ্কে রয়েছেন। ৩৫টি দোকানঘর ইতিমধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়ায় সেই সব দোকানের মালিকেরা ইতিমধ্যে পথে বসেছেন। ক্ষতিগ্রস্তরাসহ সব দোকানের মালিকেরাই তাদের জামানতের টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য প্রশাসন ও পৌরসভার দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।