২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৪ কোটি টাকায়। যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। তিন মাসের আগে খেলাপি ঋণ ছিল মোট ঋণের ৮ দশমিক ১২ শতাংশ। সে হিসেবে আগের তিন মাসের চেয়ে ডিসেম্বর শেষে মোট ঋণের তুলনায় খেলাপি ঋণ কমেছে। অবশ্য পরিমাণগত দিক থেকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। আগের তিন মাসের চেয়ে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। আর বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ১৪ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা।
করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কিছুটা কমেছে। তবে এর প্রভাব এখনো চলছে। অর্থনীতি এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। মন্দা কাটিয়ে উঠতে আরো সময় লাগবে বলেই উদ্যোক্তা ও শিল্পপতিদের অভিমত। অবশ্য সে অভিমতের সঙ্গে একমত পোষণ করে সরকার এখনো উদ্যোক্তাদের নানামুখী সুবিধা দিচ্ছেন। যদিও সেসব সুবিধা পেয়েছে হাতে গোনা কয়েক জন বা কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী। সরকারের দেওয়া সুবিধার পরও খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস শেষে ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণের পরিমাণ হয়েছে ১৩ লাখ ১ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। যা মোট ঋণের ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। করোনা শুরুর বছর ২০২০-এর ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ ছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৪ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা।
তথ্য মতে, মোট খেলাপির মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে রয়েছে ৪৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ৫১ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে ২ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার খেলাপি রয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রের বিশেষায়িত তিন ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ৩ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে পড়েছে।
২০২০ সালের গত বছরের মার্চ থেকে দেশে শুরু হয় মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ। এই সংকটকালে ঋণখেলাপিদের আরো সুবিধা দিয়েছে সরকার; গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত কিস্তি না দিলেও খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হতে হয়নি কাউকে। অর্থাৎ ২০২০ সাল জুড়েই কোনো ঋণের শ্রেণিমান পরিবর্তন করা হয়নি। কেউ কেউ স্বপ্রণোদিত হয়ে কোনো ঋণের কিস্তি বা খেলাপি ঋণ পরিশোধ করেছে। এর মানে হচ্ছে, এই এক বছর কেউ কোনো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেনি; যে ঋণ যে অবস্হায় ছিল সেই অবস্হাতে ছিল। যে খেলাপি ঋণ আদায় হয়েছে, সেটা কিছু উদ্যোক্তা নিজ উদ্যোগেই দিয়েছে।
পরে ২০২১ সালের মার্চ থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত আটটি ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করার সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এভাবে শোধ হলে খেলাপি করা যাবে না বলেও বলা হয়। এ ছাড়ের কারণে এক জন গ্রাহকের যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করার কথা তা করেননি। ফলে পরিমাণগত দিক থেকে ধারাবাহিকভাবে খেলাপি ঋণ বাড়ছে।