সালাহ উদ্দিন শুভ
তরমুজ সাহেব কলা খেতে খেতে বাজারে গেলেন। হাতে তার বাজারের ব্যাগ আর লম্বা লিস্ট। বাজারের মধ্যে ঢুকে কলার ছোলা ফেলে দিলেন মানুষ হাটার রাস্তায়। রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় আকমলের পা গিয়ে পড়ল কলার ছোলাতে। আকমল পা পিছলে চিত্ হয়ে পড়ল রাস্তায়, তার হাতে ছিল একজোড়া মাছ, মাছগুলো আকাশে উড়ে গিয়ে পড়ল পাশের হোটেলের তেলভর্তি কড়াইয়ের মাঝে। কড়াইয়ের তেল ছিটে পড়ল রাঁধুনির গায়ে, রাঁধুনি উহু আহা চিত্কার করতে করতে দিল দৌড়। দৌড়ে গিয়ে পড়ল ড্রেনে, ড্রেনের ময়লা ভত্ করে ছিটকে পড়ল মেম্বারের গায়ে। মেম্বার ছ্যাঁ ছ্যাঁ করতে করতে পিছিয়ে গেলেন, গিয়ে জোড়ে ধাক্কা খেলেন হাটের ষাঁড়ের সাথে। ষাঁড় ক্ষেপে গিয়ে দিল গুঁতা মালিকের পেছনে, মালিক ছিটকে গিয়ে পড়ল চালের বস্তার ওপর। চালের বস্তা গেল খুলে, মুরগিওয়ালা মাথায় করে মুরগি নিয়ে যাচ্ছিল, চালের উপর পা পিছলে ধপাস করে পড়ে গেল। মাথার উপড়ে থাকা মুরগিগুলো কক কক করে উড়ে গিয়ে পড়ল সবজিওয়ালার গায়ে। সবজিওয়ালা কিছু না বুঝে দিল দৌড়, কিন্তু সামনে অনেক সবজি থাকায় এবং লুঙ্গিতে পা আটকে ক্রেতা মহিলার গায়ে উপুড় হয়ে পড়ল। ক্রেতা মহিলা ভাবল তার সম্মানহানীর চেষ্টা করছে লম্পট সবজিওয়ালা। সে জোড়ে চিত্কার করে দৌড় দিল, শাড়িতে পা পিছলে পড়ল মুরব্বির গায়ে। মুরব্বি ছিঃ ছিঃ বলে দিলেন দৌড়, না দেখে দৌড়ানোর ফলে সোজা গিয়ে পড়লেন এক সিগেরেটখোরের গায়ে। সিগেরেটখোরের মুখের সিগারেট গিয়ে পড়ল গ্যাসের দোকানে। এরপর সেখান থেকে ধুম ধুম শব্দে গ্যাসের সিলিন্ডার ফাটতে লাগল। এভাবে পুরো বাজারে আগুন লেগে গেল।
এই ঘটনার দুদিন পর সালিশ বসিয়েছেন মেম্বার। প্রধান আসামি তরমুজ সাহেব। গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত, বিচার কাজ শুরু হয়েছে। তরমুজ সাহেব পেয়েরা চিবুচ্ছেন। মেম্বার রেগে গিয়ে তরমুজ সাহেবকে পেয়ারা ফেলে দিতে বললেন। তরমুজ সাহেব বিরক্ত মুখে পাশের জঙ্গলে পেয়ারা ছুঁড়ে মারলেন। জঙ্গলে লুকিয়ে ছিল এক চোর, চোর ভাবল তার গায়ে বোম ফেলা হয়েছে, সে বোম বোম বলে ভো দৌড় দিল। সালিশে থাকা পুলিশ ভাবল জঙ্গি হামলা হচ্ছে, সে তার বন্দুক উপড়ে উঠিয়ে আকাশের দিকে গুলি ছুঁড়লেন। গুলিটি নারকেল গাছে লেগে একটি নারকেল ধপাস করে এসে মেম্বারের মাথার ওপর পড়ল। পরেরদিন পুকুরপাড়ে মেম্বার সাহেবের দাফন সম্পন্ন হলো। অতঃপর তরমুজ সাহেব মনের আনন্দে সুখে শান্তিতে তরমুজ খেতে লাগলেন।
কার্টুন জ্যোতি