ই-ঠাট্টা

ঠাট্টা নয়, তামাশা

 

v সহকারীকে নিয়ে মাফিয়া গডফাদার প্রাক্তন অ্যাকাউন্টেন্টের কাছে এল।

গডফাদার অ্যাকাউন্টেন্টকে জিজ্ঞাসা করল, ‘আমার ত্রিশ কোটি টাকা কোথায় রেখেছিস?’

অ্যাকাউন্টেন্ট কোনো উত্তর দিল না।

গডফাদার আবার চিত্কার করে বলল, ‘কোথায় আমার টাকা?’

সহকারী গডফাদারকে থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘বস, আসলে সে ইংলিশ বোঝে না, ও ফ্রেঞ্চ ভাষায় কথা বলে। আপনি চাইলে ওকে আমি জিজ্ঞাসা করতে পারি।’

‘ঠিক আছে। ওকে জিজ্ঞাসা কর যে, আমার টাকা ও কোথায় লুকিয়ে রেখেছে?’ গডফাদার বলল।

প্রাক্তন অ্যাকাউন্টেন্টকে সহকারী ফ্রেঞ্চ ভাষায় টাকার কথা বললে সে উত্তর দিল, ‘আপনি কী বলছেন এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’

‘বস, সে বলছে এই বিষয়ে সে কিছুই জানে না।’ গডফাদারকে সহকারী বলল।

গডফাদার অ্যাকাউন্টেন্টের কপালে পিস্তল তাক করে বলল, ‘শেষ সুযোগ। বল টাকা কোথায় আছে, না হলে তোকে এখনই শেষ করে ফেলব।’

সহকারী এ কথা বুঝিয়ে বলতেই অ্যাকাউন্টেন্ট উত্তর দিল, ‘ঠিক আছে, আমি বলছি। টাকাটা আমার বাংলো বাড়ির পিছনে নারিকেল গাছের কাছে মাটির নিচে আছে।’

গডফাদার সহকারীকে জিজ্ঞাসা করল, ‘ও কী বলেছে?’

সহকারী উত্তর দিল, ‘সে বলেছে যে, ও মরে গেলেও বলবে না টাকাটা কোথায় আছে। সে আরো বলেছে যে, আপনার নাকি গুলি চালানোর কোনো সাহস নেই। আপনি নাকি ওর কাছে একটা তেলাপোকা।’

 

v লন্ডনে এক নাপিতের কাছে একজন রাজনীতিবিদ চুল কাটতে এল। চুল কাটা শেষে রাজনীতিবিদ নাপিতের কাছে জিজ্ঞাসা করল, ‘বিল কত হয়েছে?’

নাপিত উত্তর দিল, ‘আপনি একজন রাজনীতিবিদ ও সমাজ সেবক। সমাজসেবার অংশ হিসেবে একজন সমাজ সেবকের কাছ থেকে আমি কোনো অর্থ নিতে পারি না, তাই আপনাকে কোনো অর্থ দিতে হবে না।’

এই কথা শুনে রাজনীতিবিদ খুশি হয়ে চলে গেল। পরদিন সকালে নাপিত সেলুনের দরজা খুলতেই ধন্যবাদের অংশ হিসেবে রাজনীতিবিদের দেওয়া একটি ঝুড়িতে অনেকগুলো ফুল দরজার সামনে দেখতে পেল।

আরেকদিন একজন ক্রিকেটার চুল কাটতে এল। সে বিল কত হয়েছে জিজ্ঞাসা করতেই নাপিত বলল, ‘আপনি একজন ক্রিকেটার। আমি একজন ক্রিকেট ভক্ত হিসেবে আপনার কাছ থেকে কোনো অর্থ নিতে পারি না।’

এই কথা শুনে ক্রিকেটার খুশি হয়ে চলে গেল এবং পরদিন নাপিত সকালে সেলুনের দরজা খুলতেই ধন্যবাদের অংশ হিসেবে অটোগ্রাফ সম্বলিত একটা ক্রিকেট ব্যাট দরজার সামনে দেখতে পেল।

এর কিছুদিন পরে একজন বাঙালি চুল কেটে নাপিতের কাছে বিল কত হয়েছে জানতে চাইলে নাপিত উত্তর দিল, ‘আমি একজন বাঙালি। একজন প্রবাসী বাঙালি হিসেবে অন্য বাঙালির কাছ থেকে কোনো অর্থ আমি নিতে পারি না।’

এই কথা শুনে লোকটি অনেক খুশি হয়ে চলে গেল।

পরদিন সকালে নাপিত সেলুনের দরজার সামনে দশজন বাঙালিকে চুল কাটার জন্য লাইনে দাঁড়াতে দেখল।

 

মুহা. তাজুল ইসলাম