যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রেমে পড়া বারণ

আব্দুল্লাহ আল মাছুম

 

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বর্তমানে প্রেমে পড়ার মৌসুম চলছে। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করার খায়েশে মশগুল। এ সুযোগে আষাঢ়ে গল্পের ফাঁদে ফেলে প্রেম শিকারি বড় ভাইয়েরা প্রথম বর্ষের ছোট আপুদের কব্জা করার ধান্ধায় ব্যস্ত। অন্যদিকে বুড়ো বয়সে এসে অনেক সহপাঠী নিজেদের সম্পদ নিজেদের মধ্যেই ভাগাভাগির প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনেক মোটামুটি সিনিয়র আপু মোস্ট সিনিয়র ভাইদের পুরোনো আবদারে সায় দেবে কি না তা ভাবছে। হবু প্রেমিক-প্রেমিকাদের এ রকমের অসাধু তত্পরতায় শঙ্কা প্রকাশ করেছে একসময়ের ক্ষেতে নেমে প্রেম করা প্রেমিক-প্রেমিকারা। এসব প্রাক্তনেরা জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে খুঁজে বের করেছে প্রেমকে বারণ করার এক লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০টি কারণ। সেখান থেকে একহালি কারণ বিনা কারণে জেনে নিন—

কামলা খাটা বারণ

আজকের ঘোরকলি যুগে প্রেম মানেই ‘তুমি কামলা, আমি আমলা’। আমি বলতে আমি না কিন্তু। প্রেমিক ও চরকি ঘোরানো প্রেমিকার কথা বলছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কত কত অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, গবেষণা, মাঠকর্ম, ল্যাব আরো হাবিজাবি কতকিছু থাকে। প্রেমিকা যদি প্রেমিকের সহপাঠী হয় তবে জীবন শেষ। যদি জুনিয়র হয় তাহলেও জীবন শেষ। এই করো সেই করো। এটা করোনি কেন, ওটা করেছ কেন। একদিকে নিজের কাজ তো করিয়েই নেবে, অন্যদিকে প্রেমিককে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দেখার সুপ্ত বাসনা থাকলে প্রেমিকের ‘ফাঁকি দিয়ে অ্যাসাইনমেন্ট করার ১০১টি উপায়’ বইখানাও জব্দ করবে। এখন প্রেমিক এই ঋণ শোধ করবে কীভাবে। প্রত্নতাত্ত্বিক বইখানা তো তার আরেক প্রেমিকার কাছ থেকে ধার করা ছিল। এমন অবস্থায় প্রেমিকের আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো উপায় আছে? আবার ধরেন, প্রেমিকা স্বপ্নে দেখল তার ঠাণ্ডা-কাশি হতে পারে। ব্যস! প্রেমিকের ঘুম হারাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রি মেডিকেল সেন্টারে দিনে অন্তত দশবার যেতেই হবে। শরীরের এই অবস্থায় হলের ক্যান্টিনে খাওয়া প্রেমিকার জন্য নিরাপদ নয়। হল থেকে বিভাগে একা যাওয়াও নিরাপদ নয়। তো কী করতে হবে। আপনার পাশের হতভাগা প্রেমিক বন্ধুটির কাছ থেকে জেনে নিন।

অন্যের পরিচয়ে পরিচিত হওয়া বারণ

প্রেমিকা জুনিয়র হলে এই সমস্যাটা প্রকট আকার ধারণ করে। প্রেমিকা নিজের সার্টিফিকেটের নাম বিসর্জনের বিনিময়ে দুটি নাম পায়। নিজের ভুল সিদ্ধান্তের পরিণামে ক্ষেত্রবিশেষে হতভাগিনীর নাম হয়ে যায় ‘অমুকের গফ’, ‘অমুক ভাইয়ের গফ’। যেখানে আপনার গোঁফই নেই সেখানে আপনাকে পরিচয় করানো হবে ‘গফ’ নামে। কতটা ভয়ংকর একবার ভাবুন তো। প্রেমিক-প্রেমিকা একে অপরকে বাবু-সোনা-জান আরো কী সব ন্যাংটা নামে ডাকে সেসব নাইবা বললাম। তাই নিজের পরিচয়ে পরিচিত হতে চাইলে প্রেমে পড়া যাবে না।

স্বপ্ন ছোট করা বারণ

আপনি যদি প্রেমে পড়ে যান তবে স্বপ্ন জগতের অনেক এলাকা থেকে আপনাকে বহিষ্কার করা হবে। স্বপ্ন জগতেও আপনাকে প্রেমিকার আশপাশেই ঘুরে বেড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় অবাধ স্বাধীনতার জায়গা। আপনি নিজের অধিকার নিজেই গলা টিপে মারবেন কেন? তাই সিঙ্গেল থাকুন। যতজনকে ইচ্ছা ততজনকে নিয়েই স্বপ্ন দেখুন। প্রয়োজনে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়ান। স্বপ্নে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। যেহেতু আপনি কারোই না সেহেতু কেউ আপনাকে বাধা দেবে না।

অভিজ্ঞতা অর্জন বারণ

বেসরকারি চাকরি জগতে অভিজ্ঞতা ছাড়া নাকি চাকরি হয় না। সরকারি ও আধাসরকারি চাকরিতেও অভিজ্ঞতার কদর আছে। একজন সদ্য গ্র্যাজুয়েট এত অভিজ্ঞতা পাবে কোথায়? তাই চাকরিদাতাদের অভিজ্ঞতার শর্ত নিয়ে জনমনে আছে প্রচুর ক্ষোভ। অভিজ্ঞতার শর্ত বাতিলের দাবিও জোরালো। এই জোরালো দাবি ও ক্ষোভ দাবানলে পরিণত হওয়ার ভয়ে এখনো বিয়ের বাজারে ‘অভিজ্ঞতা’ সংযোজন করা সম্ভব হয়নি। বিয়ের প্রস্তাবের উড়োচিঠিতে যদি আপনার অভিজ্ঞতাও থাকে, তবে সেই ভারী খাম বেশিক্ষণ উড়তে পারবে না। ধপাস করে কোনো অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তির কোলেই পড়বে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আপনি একবার প্রেমের অভিজ্ঞতা নিলে প্রেমের সুযোগ-সুবিধা সবই জেনে যাবেন। তখন এসব হীরায় মোড়ানো খাঁটি কথা আপনার কাছে কাচের টুকরো মনে হতে পারে। আমাকে ফালতু ভাবতে শুরু করবেন। কৃষ্ণগহ্বর থেকে প্রকাশিত আমার প্রিমিয়াম ভার্সনের বইটাও কিনবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে দেখা হলেও পাত্তা দেবেন না। তাই আমার প্রভাব-প্রতিপত্তির স্বার্থে অন্তত বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আপনার প্রেম করা বারণ।

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।