এবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স এবং চীনা প্রতিষ্ঠান বাইটড্রান্সের মালিকানাধীন ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক রাশিয়ায় তাদের কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। দেশটিতে লাইভ স্ট্রিমিং ও নতুন কনটেন্ট আপলোড স্থগিত করেছে।
এ নিয়ে নেটফ্লিক্সের মুখপাত্র বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা রাশিয়ায় নিজেদের সার্ভিস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ভিসা ও মাস্টারকার্ডের পর রাশিয়ায় লেনদেন সেবা স্থগিত করেছে পেপ্যালও। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটি।
পেপ্যালের প্রধান নির্বাহী ড্রান শুলশ্যানের একটি চিঠি টুইট করে রাশিয়ায় পেপাল সেবা বন্ধ হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ।
শুলম্যান লিখেছেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে, আমরা রাশিয়ায় পেপাল সেবা বন্ধ করছি। এই কঠিন সময়ে ওই অঞ্চলে অবস্থিত আমাদের কর্মীদের সমর্থন দিতে আমাদের পক্ষে যা সম্ভব তার সবটাই করছি আমরা।”
এর আগে সপ্তাহের শুরুতেই নতুন নিবন্ধন করে পেপাল। এরপর একযোগে সব সেবা স্থগিত করা হয়। এর ফলে পেপ্যালের মানি ট্রান্সফার সেবা জুমও রাশিয়াতে বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ইউক্রেনে হামলার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ায় কার্যক্রম স্থগিত করেছে আমেরিকান এক্সপ্রেসও। বেলারুশের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এখন থেকে আমেরিকান এক্সপ্রেসের কার্ড রাশিয়ায় কাজ করবে না। এর আগে ভিসা ও মাস্টারকার্ড তাদের সার্ভিস বন্ধ করে দেয় রাশিয়ায়।
আরও দুটি বড় কোম্পানি লেনদেন স্থগিত করেছে রাশিয়ার সঙ্গে। সে দুটি কোম্পানি হলো প্রাইজ ওয়াটার হাউজ কুপারস (পিডব্লিউসি) এবং কেপিএমজি।
রাশিয়া নতুন করে আইন পাস করার কারণে কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাদের কাজ স্থগিত করেছে দেশটিতে। সেসব প্রতিষ্ঠান হলো বিবিসি, ব্লুমবার্গ নিউজ, কানাডার সিবিসি, জার্মান পাবলিক ব্রডকাস্টার এআরডি ও জেডডিএফ এবং ইতালির রাই।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে রাশিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম সুইফটের লেনদেনও বন্ধ হয়ে গেছে।
ইউক্রেনে হামলা চালানোর দুই সপ্তাহের মাথায় কয়েক ধরনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে রাশিয়া। এখনো রাশিয়া থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। স্থানীয় সময় রবিবার (৬ মার্চ) পর্যন্ত বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি রাশিয়ার বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে