নেতার মে দিবস

 

হাসিন মোয়াজ্জেম

 

ক’দিন পরে শ্রমিক দিবস দাওয়াত আছে মিটিং-এ

মিটিং-মিছিল দাবী-দাওয়া, শেষ হবে তা ইটিং-এ।

সমাজ সেবায় সুনাম আছে, সবাই করে মান্য

সবার দাবী, অনুষ্ঠানে আসলে হব ধন্য।

তৈরি থাকি আগে-ভাগে, দিতে হবে ভাষণ

আমার দ্বারাই পূর্ণ হবে সভাপতির আসন

পয়লা মে-তে সকাল বেলা যেই না চাইলাম নাস্তা

রুদ্ররূপে গিন্নী বলে, সোজা মাপো রাস্তা

হয়নি কিছুই রান্না-বাড়া হয়নি করা রুটি

গতকাল-ই বলল বুয়া আজ নাকি তার ছুটি।

বিরস মুখে শূন্য পেটে গলির মুখে দাঁড়াই

মে দিবসে প্রাণ পেয়েছে আমার গোটা পাড়া-ই।

একটা মুচি করত রোজ-ই আমার জুতোর কালি

নবাবজাদা বসত যেথায় সেখানটাও আজ খালি

রিকশা ডেকে উঠে পড়ি, অনুষ্ঠানের তাড়া

মেজাজ-টেজাজ খারাপ ছিল মেটাইনি তাই ভাড়া।

রিকশা থেকে নেমেই দিলাম যেই না টাকা দশ

ফাজিল বেটা বলছে রেগে—দিলেন এ কী বস?

মুখটা হলো প্যাঁচার মতো অন্ধকার এক রাজ্য

বলল খেপে—আজকের দিনে ভাড়াটা দিন ন্যায্য।

বোঝে গেলাম আজকে আমার হয়নি শুভযাত্রা

সকাল থেকেই মেজাজ গরম, বাড়ছে রাগের মাত্রা।

রিকশাঅলা-মুচি-বুয়া সব পেয়েছে লাই

এদের জ্বালায় দেখছি এখন বাঁচার উপায় নাই।

অনুষ্ঠানে হয় না যাওয়া উল্টো পথে হাঁটি

কপাল দোষে আমার হলো মে দিবসটা মাটি।