ড্রয়ে শেষ হলো রাওয়ালপিন্ডি টেস্ট

মরা উইকেটে বোলারদের জন্য খুব বেশি কিছু একটা নেই। তারপরও কঠিন কন্ডিশনে ছয় উইকেট শিকার করেছেন নোমান আলি। তার দেখানো পথে হাটতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। যার ফলে ড্রয়েই নিস্পত্তি হয়েছে রাওয়ালপিন্ডি টেস্ট। ২৪ বছর পর পাকিস্তানে অজিদের প্রথমবার খেলাটা সুখকর হলো না, তবে বাজে হয়েছে সেটা বলারও সুযোগ নেই।

এরকম উইকেট বানানোয় ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হতে পারে রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে। উইকেট নিয়ে খোদ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে পাকিস্তানি ক্রিকেট পন্ডিতরাই। এই যেমন মঙ্গলবার পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে একটি উইকেটও ফেলতে পারেননি কোনো অজি বোলার। ২৫২ রানের উদ্বোধনী জুটিতে শতক হাকান দুই ওপেনার আব্দুল­াহ শফিক ও ইমাম-উল-হক। ১৪৫ বছরের টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো কোনো ম্যাচের দুই ইনিংসেই শতরানের বেশি করেছে কোনো দলের উদ্বোধনী জুটি।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ পায়নি অস্ট্রেলিয়া। ছবি: এএফপি/গেট্টি ইমেজ

পঞ্চম দিনের খেলা শেষ হওয়ার ২১ ওভার আগে ড্র মেনে নেয় দুই দল। শফিক ১৩৬ রান ও ইমাম তার টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে ১১১ রানে অপরাজিত ছিলেন। ম্যাচ সেরার পুরষ্কারও উঠে এই ওপেনারের হাতে।

প্রায় আড়াই বছর একাদশে সুযোগ পেয়ে তা ভালোভাবেই কাজে লাগালেন তিনি। ম্যাচ শেষে ইমাম বলেন, 'দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করতে পেরে ভালো লাগছে। তার থেকে বেশি তৃপ্তি দিচ্ছে সেঞ্চুরি দুটো অস্ট্রেলিয়ার ভালো বোলিং অ্যাটাকের বিপক্ষে। সেরা দলের বিপক্ষে রান করলে ক্যারিয়ার আরও একধাপ এগিয়ে যায়। বেসিক ঠিক করার চেষ্টায় ছিলাম এবং অপেক্ষা করেছি বাজে বলের জন্য।'

এর আগে ৭ উইকেটে ৪৪৯ রানে দিনের খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। নিজেদের প্রথম ইনিংসে আর মাত্র ১০ রানই যোগ করতে পারে সফরকারীরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান: ৪৭৬/৪ ডি. ও ২৫২/০ (শফিক ১৩৬*, ইমাম ১১১*)।
অস্ট্রেলিয়া: ৪৫৯/১০ (খাজা ৯৭, লাবুশেনে ৯০, স্মিথ ৭৮; নোমান ৬/১০৭)।
ফল: ড্র। 
ম্যাচসেরা: ইমাম-উল-হক।