দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী সাফফায় নায়েম নাফিকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। রাবির ছাত্র-উপদেষ্টা তারেক নূর বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত বুধবার (৯ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আমজাদের মোড়ের এন.আর ছাত্রাবাসে দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। এতে গুরুতর আহত ওই শিক্ষার্থীকে রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি রাবির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ও মতিহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
এদিকে নাফিকে ছুরিকাঘাতের প্রতিবাদে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আগামী রবিবারের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে না পারলে আবারও অবস্থান কর্মসূচি দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেন।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব জানান, নাফির চিকিৎসার খরচ বিশ্ববিদ্যালয়কে বহন হবে এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘সব দাবিই বাস্তবায়ন হবে। তবে সবার আগে ছেলেটাকে বাঁচাতে হবে। রাজশাহী সিটি মেয়র, মেস মালিক সমিতি, পুলিশ প্রশাসন নিয়ে আমরা খুব দ্রুতই বসবো। তিনি অবিলম্বে হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারের আশ্বাস দেন।
ভুক্তভোগীর সহপাঠী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীফ এনআর ছাত্রাবাসে থাকতেন। ওই মেসে সবার নামাজ পড়া বাধ্যতামূলক ছিল। রুমে নামাজ পড়ার জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন হতো। শরীফের পরীক্ষা থাকায় তিনি রুমে নামাজ পড়তেন। এ নিয়ে মেসে থাকা কিছু সদস্যের সঙ্গে তার বিবাদ হয়। এক পর্যায়ে শরীফ মেস মালিকের কাছে অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সভা ডেকেছিলেন মেস কর্তৃপক্ষ। সভার শেষ পর্যায়ে কিছু স্থানীয় ছেলে রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে নাফিকে তারা ছুরিকাঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হন তিনি।
এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার আলী তুহিন জানান, আহত শিক্ষার্থীর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।