ভারতে পাঁচটি রাজ্যের সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশ, গোয়া, উত্তরাখণ্ড ও মণিপুর—এই চারটি রাজ্যেই বিজেপি জোট বড় ব্যবধানে জিতে ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে। সব রাজ্যে সব আসনের পুরোপুরি ফল এখনো প্রকাশিত না হলেও প্রাপ্ত আসনের যে ব্যবধান তা অতিক্রম করে অন্যদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে পাঞ্জাব প্রদেশে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের দল আম আদমি পার্টি ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে। রাজ্যগুলোতে কংগ্রেস বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, যোগী আদিত্যনাথের উত্তর প্রদেশে ৪০৩টি আসনের মধ্যে ২৭২ টিতেই বিজয় নিশ্চিত হয়েছে বিজেপির। এ রাজ্যে গরিষ্ঠতার জন্য ২০২টি আসনই যথেষ্ট। বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অখিলেশ যাদবের দল সমাজবাদী পার্টি (এসপি) পেয়েছে ১২৬টি আসন। কংগ্রেস পেয়েছে দুটি আসন।
উত্তর প্রদেশ রাজনৈতিকভাবে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে বিজেপির ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনকে দলের জন্য বিরাট সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এই রাজ্যের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর নেতৃত্বাধীন বিএসপি কার্যত ঐ রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র থেকেই হারিয়ে গেছে। দলটি পেয়েছে মাত্র একটি আসন।
গোয়ার ৪০টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ২০টি আসন। কংগ্রেস পেয়েছে ১২টি আসন। আম আদমি পেয়েছে তিনটি আসন। অপর দিকে, উত্তরাখণ্ডে ৭০টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ৪৭টি আসন। কংগ্রেস ১৯টি আসন। বিএসপি পেয়েছে মাত্র দুটি আসন।
এর বাইরে মণিপুর রাজ্যেও নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিজেপি। এ রাজ্যে ভরাডুবি হয়েছে কংগ্রেসের। রাজ্যের ৬০টি আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছে ৩২টি আসনে। সরকার গঠন করতে প্রয়োজন ৩১টি আসন। এ রাজ্যে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) আটটি ও কংগ্রেস চারটি আসন পেয়েছে। পাঁচ বছরের ব্যবধানে ভরাডুবি হলো কংগ্রেসের। অন্য দিকে পাঞ্জাবে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল আম আদমি পার্টি (আপ)। দলটি রাজধানী দিল্লির বাইরে এই প্রথম ভারতের কোনো রাজ্যে সরকার গড়তে চলেছে। প্রদেশের ১১৭টি আসনের মধ্যে আম আদমি পার্টি ৯২টি আসন পেয়েছে। এখানে কংগ্রেস পেয়েছে ১৮টি। বিজেপি পেয়েছে মাত্র দুই আসন। ভারতের পাঁচ রাজ্যের এ নির্বাচনকে বলা হচ্ছে ‘মেগা নির্বাচন’ বা ‘সেমিফাইনাল’। কারণ, আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে এর চেয়ে বড় নির্বাচন আর নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় সকাল ৮টায় ভোটের গণনা শুরু হয়। শুরুতে পোস্টাল ব্যালট গোনা হয়। পরে ইভিএমের।
এদিকে বড় ব্যবধানে সবগুলো রাজ্যে পরাজয়ের পর প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন, ‘গণতন্ত্রে জনগণের রায়ই প্রধান। আমাদের কর্মী-নেতারা পরিশ্রম করেছেন, সংগঠন জনগণের সমস্যা নিয়ে লড়াই করেছে। কিন্তু আমরা আমাদের পরিশ্রমকে ভোটে রূপান্তর করতে পারিনি।’ অপর দিকে রাহুল গান্ধীও হার স্বীকার করে জয়ী প্রার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নেবে কংগ্রেস। অপর দিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, জনগণ উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই বিজেপি নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে।