কোভিড-পরবর্তী জটিলতা কাটিয়ে উঠতে করণীয়

কোভিড নিয়ে মানুষের জানার যেমন শেষ নেই, তেমনি উদ্বেগও কম নয়। আমরা জানি কোভিড হলে জ্বর, শরীর ব্যথা, গলাব্যথা, কাশি থেকে শুরু করে নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আবার উপসর্গবিহীনও কোভিড হতে পারে। তবে কোভিড থেকে নিরাময়ের পর কী কী ধরনের জটিলতা হতে পারে, তা আমরা খুব একটা জানি না। তাদের মধ্যে আমিও একজন। কারণ আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে আমি এখনো কোভিডে আক্রান্ত হইনি। তবে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে এসংক্রান্ত জটিলতা বা পোস্ট কোভিড কমপ্লিকেশন সম্পর্কে যতটুক বুঝি তা হচ্ছে কোভিড-পরবর্তীকালে সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তিরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সপ্তাহখানেক বা সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়। আবার অনেক সময় দীর্ঘ সময় লাগে কোভিড থেকে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করতে। এটাকে বলা হয় লং কোভিড।

বিশেষজ্ঞ ও আক্রান্তদের মতে, কোভিডের জটিলতার মধ্যে রয়েছে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, শারীরিক দুর্বলতা বা অবসাদ, মানসিক ও শারীরিক ক্ষমতা হ্রাস, ব্রেইন ফগ বা চিন্তাশক্তি ও কাজে মনোযোগ কমে যাওয়া, কাশি, পেট ও বুকে ব্যথা, মাথাব্যথা, হৃদস্পন্দন উঠানামা করা, পালপিটিশন হওয়া, ডায়রিয়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা, মুড চেঞ্জ, খাবারের ঘ্রাণ ও রুচি কমে যাওয়া, ক্ষেত্রবিশেষে মেমোরি লস ইত্যাদি। এছাড়া হার্ট, ফুসফুস, কিডনি, ত্বক ও ব্রেইন ফাংশন বা মস্তিষ্কের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর আমি আগেই বলেছি, কোভিডে আক্রান্তদের স্মৃতিশক্তি লোপ, চিন্তা ও মনযোগ হ্রাস এবং মস্তিষ্কের ক্ষমতা কিছুটা হ্রাস পর্যন্ত পেতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিডে আক্রান্তদের মস্তিষ্কের যে ক্ষতি সাধিত হয় এবং যে পর্যায়ের চিন্তাশক্তি, স্মৃতিশক্তি বা মনোযোগ কমে, তা আমলে নেওয়ার মতো নয়। পুষ্টিকর প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার, এক্সারসাইজ এবং মনবল বৃদ্ধি ও একটিভ থাকতে পারলেই পোস্ট কোভিড জটিলতা থেকে সুস্থ থাকা যায়। তবে মেডস্কেপস করোনা ভাইরাস রিসোর্স সেন্টারের বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু কিছু ননইনভেসভ ব্রেইন স্টিমুলেশন ব্যবহার করে ব্রেইন ফাংশন স্বাভাবিক করা যায়। তবে এ ধরনের পদ্ধতির কোনো প্রোয়োজন নেই। ৪ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে এমনিতেই সব স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পোস্ট কোভিড জটিলতা আরো দীর্ঘদিন থাকতে পারে। এতে বিপদের কিছু নেই।

লেখক: চুলপড়া, অ্যালার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশে