বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল নিয়ে সর্বত্রই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। দলে কারো অনুপস্থিতি নিয়ে খুব বেশি উচাটান নেই বিশ্লেষকদের মাঝে। সবাই একবাক্যে বলছেন, সময়ের সেরা দল গঠন হয়েছে। এখন মাঠে পারফর্ম করাই মূল চ্যালেঞ্জ।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলও বলেছেন, সেরা দল হয়েছে। অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ দল। তবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী শোনাল না আশরাফুলের কণ্ঠ। বিশেষ করে এবার সেরা চারে খেলার আশায় বুক বেঁধেছে গোটা দেশ। সেখানে আশরাফুল বলছেন, টুর্নামেন্টের ফরম্যাট, অনেক ম্যাচের কারণে সেমিতে খেলা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হবে। সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান অবশ্য আশাবাদী বন্ধু মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্ব নিয়ে। তার মতে, যা কিছু ঘাটতি-কমতি সেগুলো মিটিয়ে দিতে পারে মাশরাফির অধিনায়কত্ব।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল নিয়ে গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের আশরাফুল বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের হিসেবে আমি বলব যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ দল। পাঁচ জন ক্রিকেটার আছেন যারা ১২ বছরের ওপরে খেলছেন। যেহেতু এবারের ফরম্যাট একটু ভিন্ন, লাস্ট তিনটা বিশ্বকাপে কিন্তু সফল, আমরা তিনটা করে জয় পেয়েছিলাম। কিন্তু এবারে যদি সেমিফাইনালে যেতে হয়, আমাদের কমপক্ষে ৫-৬টা ম্যাচ জিততে হবে। ওইদিক থেকে চিন্তা করলে অভিজ্ঞ দল, কিন্তু সেমিফাইনাল খেলা একটু কঠিন হয়ে যাবে।’
বোলিং আক্রমণ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত দেখাল আশরাফুলকে। ম্যাচ জিততে বোলারদের ভালো করতেই হবে। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমাদের বেশিরভাগ বোলাররা কিন্তু একটু ইনজুরি সমস্যায় আছে। যেই ধরনের উইকেটে খেলা হবে সেখানে আসলে ভালো বোলিং না করলে ম্যাচ জেতা কঠিন হবে।’
রুবেল হোসেন ছাড়া দলের কোনো পেসারই দ্রুতগতির নন। আশরাফুলের অভিজ্ঞতা বলছে ইংল্যান্ডে গতির ঝড় তুলতে পারা পেসার দরকার ছিল। অভিজ্ঞ এ ক্রিকেটার বলেছেন, ‘যেই ধরনের উইকেটে খেলা হবে এবং আমাদের বোলারদের যেই গতি, এ জায়গায় মনে হয় আমরা একটু পিছিয়ে থাকব। আমাদের রুবেল শুধু ১৪০ এ বল করতে পারে, বাকিরা ১৩০-১৩৫ এইরকম।’
মাশরাফির নেতৃত্ব আস্থা জোগাচ্ছে আশরাফুলকে। বিশ্বকাপে বন্ধুকে বড় ভরসা মানছেন তিনি। বলেছেন, ‘আমাদের একটা সুবিধা থাকবে যে মাশরাফি অধিনায়ক। কারণ সে সেরা অধিনায়ক। ভালো একটা অধিনায়ক থাকলে এইসব ছোটোখাটো জিনিসগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবে। সিনিয়ররা যদি তাদের সেরাটা দিতে পারে এবং জুনিয়ররা যদি ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে পারে, তাহলে ভালো কিছু আশা করতে পারি।’
আশরাফুল আশা করছেন, বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তানকে হারাবে বাংলাদেশ। সেমিতে খেলতে হলে নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে একটি দলকেও হারাতে হবে টাইগারদের। তবে নিজেদের সেরাটা খেললে সব দলের বিরুদ্ধেই জেতার সামর্থ্য আছে বাংলাদেশের।
আশরাফুল বলেছেন, ‘যদি সেমিফাইনাল খেলতে হয় তাহলে সবাই আমরা ধরে নিচ্ছি যে, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইডিজ, নিউজিল্যান্ড এবং সাউথ আফ্রিকা থেকে একটা টিম হয়তো বা আমাদের জিততে হবে।’
বাংলাদেশের সাত তরুণ ক্রিকেটার এবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। পাঁচ সিনিয়রের পাশাপাশি মুস্তাফিজ-লিটনদের প্রতি অগ্রজ আশরাফুলের পরামর্শ— ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেল। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ আসলে প্লেয়ারদের তারকা বানায়। এখানে যদি আপনি ভালো খেলতে পারেন দেশের জন্য নাম হবে, নিজের জন্য নাম হবে। যেই ৭ জনের নাম হচ্ছে ওরা কিন্তু ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জন্য বড় তারকা। এই প্লেয়ারদের জন্য শুভ কামনা রইল। ওরা যেন ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে এটাই আশা থাকবে।’