মেসি-নেইমারকে গালি দিচ্ছেন পিএসজির সমর্থকরা

নেইমারকে যে কারণে পিএসজিতে আনা হয়েছিল, তা করতে ব্যর্থ তিনি। আবার বেতন নিচ্ছেন অনেক বেশি। চলতি মৌসুমে লিওনেল মেসিকেও আনা হয়। কিন্তু তিনিও এখন পর্যন্ত নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। নিজের ছায়া হয়েই রয়ে গেছেন। গত সপ্তাহে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে টুর্নামেন্টটি থেকে বিদায় নিয়েছে তারা।

অন্যদিকে, পিএসজির এখন বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। গুঞ্জন রয়েছে, আসছে মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমাবেন তিনি। শিগগিরই উভয় পক্ষের মধ্যে চুক্তিও হয়ে যাবে। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের বিপক্ষে পিএসজির করা দুটি গোলই তার। আছেন অবিশ্বাস্য ফর্মে। আর ম্যাচটিতে ভালো খেললেও ঠিক আলো ছড়াতে পারেননি মেসি-নেইমার। আর প্রথম লেগে পেনাল্টিও মিস করেছেন মেসি। সেটি মিস না হলে হয়তো আজ পিএসজি কোয়ার্টার ফাইনালে থাকতো।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ রবিবার (১৩ মার্চ) লিগ ওয়ানের ম্যাচে বোর্দোর বিপক্ষে মাঠে নামে পিএসজি। ৩-০ গোলে জয় পেয়েছে তারা। একটি করে গোল করেছেন এমবাপ্পে-নেইমার ও পারদেস। আর গোল করতে না পারলেও একটি গোলে সহায়তা করেছেন মেসি। তবু, পিএসজি সমর্থকদের গালি থেকে বাঁচতে পারেননি মেসি ও নেইমার। ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় গ্যালারিতে তাদের নামে দুয়োধ্বনি দিয়েছে সমর্থকরা। কারণটাও স্পষ্ট।

আজ ম্যাচের আগে পিএসজির সমর্থকদের চরমপন্থী গোষ্ঠী ‘কালেকটিফ আল্ট্রাস পারিস’ এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিল ম্যাচে কী ঘটতে যাচ্ছে। বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘আমাদের পিএসজিতে এমন খেলোয়াড় দরকার, যারা দলের সেবা করে। তাদের দরকার নেই, যারা দল থেকে শুধু সেবা নেয়। বোর্দোর বিপক্ষে ম্যাচে আমরা আমাদের অসন্তোষ জানাবো। তাই এই ক্লাবকে যারা ভালোবাসে এবং যারা উপস্থিত থাকবেন, তাদের সবাইকে আমাদের অহিংস কর্মসূচিতে যোগ দিতে আহ্বান জানাচ্ছি।’

ম্যাচেও তাদের কথার প্রতিফলন ঘটেছে। যতবারই মেসি ও নেইমার বল স্পর্শ করেছেন, ততবারই তাদের নামে দুয়ো দেওয়া হয়েছে। ২১ মিনিটে একটি ফ্রি কিক নেওয়ার জন্য দুই তারকা এক সঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন পার্ক দে প্রিন্সেসের গ্যালারি থেকে দুয়োধ্বনি আরও জোড়ালো হয়। সেই ফ্রি-কিকটি বারের ওপর দিয়ে মারেন নেইমার। এতে যেন আরও ক্ষেপে ওঠে সমর্থকরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে, ৫২ মিনিটে নেইমার গোল করলেও কোনো উদযাপন করেননি।