সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
বাংলাদেশ দল বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ নিয়ে কোনো দুর্ভাবনায় নেই। স্বাগতিক উইঙ্গার সানজিদা খাতুন এমনটি জানিয়েছেন। বরং তার ভাবনা হচ্ছে সেমিফাইনাল জিততে হবে। রাইট উইঙ্গ পজিশনে কিরগিজস্তানের বিপক্ষে দারুণ খেলেছিলেন সানজিদা। নিজে গোল করেছেন এবং গোল করিয়েছেন। বাংলাদেশ ২-১ গোলে কিরগিজস্তানকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে এখন সেমিফাইনালের অপেক্ষায়। সেমিফাইনালে যে দলই আসুক না কেন তাদের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা দিয়ে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সানজিদাদের বাংলাদেশ। শেষ চারের প্রসঙ্গ উঠতে সানজিদার প্রশ্ন— যে কোনো দলই সেমিফাইনালে উঠে আসবে।
সানজিদা বলেন, ‘আমরা এর আগে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলেছি। এখানে যারা খেলতে এসেছে তারা তো অস্ট্রেলিয়া, জাপানের চেয়ে শক্তিশালী না। তাহলে লাওস বা অন্য কোনো দল নিয়ে এত ভয় পাওয়ার কি আছে?’
বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবলে লাওস শক্তিশালী দল। ‘এ’ গ্রুপে ফেবারিট। লাওসের খেলায় ধার বেশি। কিন্তু সেসব নিয়ে ভাবছেন না সানজিদা।
টুর্নামেন্টের প্রথম খেলায় বাংলাদেশ ২-০ গোলে আরব আমিরাতকে হারালেও সানজিদার পারফরম্যান্স সমালোচিত হয়। যদিও কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন এবং বাফুফের টেকনিক্যাল অ্যান্ড স্ট্র্র্যাটেজিক ডাইরেক্টর পল থামস স্মলী বলেছেন, উইঙ্গারটির পারফরম্যান্স ভালো। কিন্তু সানজিদা খুশি ছিলেন না। ভালো কোনো বল ক্রস করতে পারেননি। হেঁটে হেঁটে খেলেছেন। সেদিন তার খেলায় দর্শক খুশি হয়নি।
সেটা বুঝতে পারছেন তিনি। তাই হয়তো রাখঢাক না করে কিরগিজস্তানকে হারিয়ে জার্সি গায়ে ঘর্মাক্ত সানজিদা বলছিলেন, মিয়ানমারে এর চেয়েও বেশি গরমে খেলেছি আমরা। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বলেন,‘ আগের খেলায় ভালো খেলতে পারিনি। একটা জেদ ছিলো ভালো কিছু করতে হবে। টার্গেট রেখেছিলাম ভালো খেলবো। খেলতেই হবে।’
তিনি নিজে গোল করেছেন এবং গোল করিয়েছেন। কোনিট বেশি ভালো লাগে ? সানজিদার চটপট জবাব, ‘গোল করার চেয়ে গোল করাতেই বেশি ভালো লাগে।’ গতকাল বাফুফে ভবনে পুনরায় কথা বলতে গেলে সানজিদা হাসতে হাসতে বললেন,‘কিরগিজস্তানের সঙ্গে এক গোল করেছি। ম্যাচ সেরা পুরস্কার পেয়েছি। রাতে ভালো ঘুমও হয়েছে। খেলায় আরো গোল করতে পারতাম, এটা নিয়ে আফসোস নেই। দল জিতেছে, এটাই আমার কাছে বড় আনন্দ।’
আগামী মঙ্গলবার টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ। আগের খেলা হওয়ায় গতকাল ছিলো না অনুশীলন। তাই ঘুরে ফিরে কিরগিজস্তানের ম্যাচ নিয়ে কথা উঠলো। অধিনায়ক মিশরাত জাহান মৌসুমী বলছিলেন,‘যেখানে ড্র করলেই আমাদের চলতো, সেখানে আমরা কিরগিজস্তানকে হারিয়েই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। খেলায় জিততে গেলে গোল করতে হয়। আর গোল করতে গেলে সুযোগ তৈরি করতে হয়। আমরা গত দুই ম্যাচেই সেই সুযোগই অসংখ্যবার তৈরি করতে পেরেছি।’
তিনি আরো বলেন,‘এটা অবশ্যই ভালো দিক। তবে সেই সুযোগগুলোর বেশিরভাগই আমরা কাজে লাগাতে পারিনি, এটা স্বীকার করতেই হবে। দিন শেষে বড় কথা হচ্ছে আমরা জয় পেয়েছি। দলের সবাই ৯০ মিনিটই একই গতিতে, একই দমে খেলতে পেরেছি, এটাও তো দেখতে হবে।’
এতো বেশি সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে না পারার প্রশ্নে মৌসুমী বলেন,‘বেশি গোলে জিততে না পারায় হতাশা তৈরি হচ্ছে ফুটবল দর্শকদের মধ্যে সেটা বেশ বুঝতে পারছি। তাদের এই প্রত্যাশা মেটাতে না পারায় আমরা দুঃখিত। তবে এটা জোর দিয়ে বলতে পারি আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই।’ ফুটবল দর্শক নিয়ে মৌসুমী বলেন,‘ আমাদের নিয়ে দেশবাসীর প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে।’
গোলাম রাব্বানী ছোটনের কথা হচ্ছে খেলায় জয় পাওয়াটাই তার কাছে বড় কথা। ছোটন বললেন, ‘যতই আমরা ফিনিশিংয়ের দুর্বলতার কথা বলি কিংবা গোল কম করি না কেন, একটা দিক হচ্ছে দলীয় জয়। দিন শেষে এটাই তো আসল ব্যাপার। সেমিফাইনালেও আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামবে এবং জিতবে।’