এবার আইএমএফের পরামর্শে আসছে আয়কর আইন

ভ্যাট আইনের পর এবার আয়কর আইন পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দাতাসংস্থাটি ৩৪ অধ্যায়ের একটি খসড়াও দিয়েছে। এখানে বর্তমান আইনের সামান্য কিছু ধারা-উপধারা যোগ হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম যুক্ত হয়েছে। শিগ্গিরই আইনটি চূড়ান্তকরণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইএমএফ। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, আইএমএফের দেওয়া খসড়া আইনে প্রায় চার শ ধারা-উপধারা রয়েছে। খসড়া আইনে ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে অটোমেশনের সুপারিশ করা হয়েছে। আবাসিক ও অনাবাসিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে করদানে সুস্পষ্ট বিধান আছে। সারচার্জ, অগ্রিম আয়কর পরিশোধ বিষয়ে নতুন ধারাসহ কর খেলাপিদের জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। কর খেলাপি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের ধারা যুক্ত করা হয়েছে নতুন খসড়া আইনে। কর আদায়ে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষমতা কমানো হয়েছে! ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের করের পরিমাণ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। আইএমএফ থেকে দেওয়া আয়কর আইনের খসড়াটি এনবিআরের কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করছেন। পশ্চিমা ধ্যান-ধারণায় তৈরি খসড়া অনুযায়ী নতুন আয়কর আইন চূড়ান্ত করা হলে তা এ দেশের রাজস্ব আদায় বাধাগ্রস্ত করবে বলে মনে করছেন তাঁরা। জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনের সময়ে ১৯৮৪ সালে বর্তমান আয়কর আইন প্রণয়ন করা হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিচারে বর্তমান আয়কর আইন পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে জানান এনবিআরের আয়কর প্রশাসন ও মানব সম্পদ উন্নয়নের সদস্য এম কাদের সরকার। তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নতুন আয়কর আইন চূড়ান্তকরণের চেষ্টা চলছে। বিশেষভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজস্ব আইন অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এনবিআরের আয়কর নীতি শাখার সদস্য আমিনুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, এ দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিচারে নতুনভাবে আয়কর আইন তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। পুরনো আইনের অতি সামান্য অংশ খসড়ায় থাকছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নতুন ধারা-উপধারা যোগ হবে। দাতাসংস্থার দেওয়া খসড়ার বিরোধিতা করে আমিনুল করিম জানান, 'দাতাসংস্থার ছক মেনে এ আয়কর আইন চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশে রাজস্ব আদায়ে বিশেষ কোনো সুফল আসবে না। বরং প্রতিবেশী দেশ ভারতে ব্যবহৃত আয়কর আইন অনুসরণে আমাদের আইন হলে রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের জীবন ধারণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য রয়েছে।' এনবিআর সূত্র জানায়, ভারতের আয়কর আইনের আলোকে নতুন আয়কর আইন প্রণয়নের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে আইএমএফ। দাতাসংস্থার প্রতিনিধিরা ভারতের রাজস্ব আদায়প্রক্রিয়া খুব একটা গতিশীল নয় উল্লেখ করে এনবিআরের কর্মকর্তাদের জানান, ভারতে বড় অঙ্কের কর খেলাপি রয়েছে। আবার করের আওতায় নেই জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়ায় শতভাগ সফলতা এসেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় আইএমএফের ছকে বাংলাদেশে আয়কর আইন প্রণয়ন করা উচিত বলে এনবিআরকে জানান দাতাসংস্থাটির প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে তাঁরা আরো বলেছেন, বর্তমান আইনে আয়কর আদায়ে দীর্ঘদিন থেকে প্রবৃদ্ধি ২০ থেকে ৩৫ ভাগের বেশি অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে নতুন আইন প্রণয়নে প্রবৃদ্ধির ধারা আরো বাড়বে।