নয়া পল্টনের জনসভায় খালেদা জিয়া

সরকার ইমার্জেন্সি দিতে পারে

ক্ষমতায় টিকে থাকতে বর্তমান সরকার দেশে জরুরি অবস্থা জারি করতে পারে বলে শঙ্কা ব্যক্ত করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, 'এ সরকারের ভয় এখন জনগণ। বহু ফিস-ফিস শোনা যায়, ক্ষমতায় থাকতে দরকার হলে এ সরকার নাকি ইমার্জেন্সি (জরুরি অবস্থা) দেবে। কিন্তু ইমার্জেন্সি দেয়া হলে তা এ সরকারের জন্যই কাল হয়ে দাঁড়াবে। মানুষও তা মানবে না। সরকারের পতন ঘটাতে মানুষ রাজপথে নেমে আসবে। কারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।' আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে গতকাল বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ১৮ দলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে তিনি একথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি আশুলিয়ায় গার্মেন্টস কারখানায় আগুন লেগে নিহত শ্রমিক ও চট্টগ্রামে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। খালেদা জিয়া বলেন, আগামী দিনে দেশে নির্বাচন চাই। এদেশে গণতন্ত্র আমরাই এনেছি। এই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। সরকার ও আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, দাবি মেনে নিয়ে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যথাসময়ে নির্বাচন দিতে হবে। সেই নির্বাচনেই প্রমাণ হবে, জনসমর্থন হারিয়ে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে আপনারা ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিলেন। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করুন, দেশের মধ্যে অন্যকিছু দেখতে চাই না। এদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। এখানে রাজতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র চলে না। কোনো একটি পরিবারের জন্য এদেশ নয়। এদেশ জনগণের। জনগণই ঠিক করবে-দেশ কারা চালাবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে ডিসেম্বর মাসব্যাপী আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন ১৮ দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়া। এসব কর্মসূচির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, আগামী ৯ ডিসেম্বর রবিবার সারাদেশে থানা, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা সদর ও মহানগরে রাজপথ অবরোধ। ৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার 'গণতন্ত্র মুক্তি দিবস' পালন করবে ১৮ দল। এ উপলক্ষে সারাদেশে সভা-সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ২৩ ডিসেম্বর সারাদেশে গণবিক্ষোভ মিছিল। ২৬ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঢাকা মহানগরে ১৮ দলীয় জোটের গণসংযোগ। এছাড়া মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১২ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৮ দল স্ব-স্ব দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করবে। এসব কর্মসূচি ঘোষণা করে খালেদা জিয়া বলেন, কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হলে কিংবা কোথাও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলে আরও কঠিন ও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে, হরতাল ও অবরোধসহ সব ধরনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। আওয়ামী লীগ প্রতি পদে পদে আমাদের বাধা দিচ্ছে। আমরা এখনও সহনশীল রয়েছি। নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আন্দোলন চালিয়ে যেতে চাই। কিন্তু বাধা দেয়া হলে এর দায়দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। সরকার যদি তত্ত্বাবধায়কের দাবি না মানে তাহলে লাগাতার হরতাল কর্মসূচিতেও আমাদের যেতে হবে এবং আমরা যাব। এজন্য ঘরে-ঘরে প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য তিনি ১৮ দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান। বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ কিংবা কোনো দলীয় সরকারের অধীনে এদেশে নির্বাচন হবে না, হবে না, হবে না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে, হবে, হবে। যে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আরেকবার সুযোগ দিন-বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করবো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবো। করতে না পারলে আপনাদের সামনে আসব না। তখন যে শাস্তি দেবেন তা মেনে নেব। কিন্তু আমরা জানি আমরা তা করতে পারবো, সে আস্থা আমাদের আছে। কারণ অতীতেও আমরা দেশের উন্নয়ন করতে পেরেছি। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে এই আওয়ামী লীগ দেশে ১৭৫ দিন হরতাল করেছিল। তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে এই আওয়ামী লীগ কত জ্বালাও-পোড়াও-ভাংচুর করেছে। সেদিন তাদের সঙ্গে বিএনপি ছিল না, ছিল জামায়াত। দাবি আদায়ে তারা সেদিন জামায়াতকে নিয়ে সংসদ থেকেও পদত্যাগ করেছিল। তাহলে আজ তত্ত্বাবধায়কের দাবির আন্দোলনে কেন তারা বাধা দিচ্ছেন? বাধা দেয়ার কারণ আজ তত্ত্বাবধায়ক হলে ফখরুদ্দীন-মইনের মতো আর কেউ এসে তাদের উদ্ধার করবে না। তিনি বলেন, শুনেছি এ সরকারের অনেকেই বিদেশে বাড়ি-ঘরের ব্যবস্থা করে ফেলেছেন। কাজেই তাদের পালানোর সময় এসেছে, তবে এত অপকর্মের জন্য তাদের শাস্তি পেতেই হবে। এই সরকারের প্রধানমন্ত্রীও যদি সত্য কথা না বলেন, তাহলে জনগণ কার উপর আস্থা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী সংসদের ভেতরে-বাইরে, বিদেশে যেখানেই যাচ্ছেন সর্বত্র মিথ্যা কথা বলছেন। সত্য বলার সাহস তার নেই। এজন্য জনগণ এই সরকারের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এই সরকারের অধীনে দেশে অবাধ দুর্নীতি হচ্ছে। মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের দুর্নীতির কারণে পদ্মা সেতু হল না। কুইক রেন্টালের নামে তারা কুইক মানি বানিয়েছে। যে সরকার দেশের উন্নয়ন করতে পারে না, সে সরকারের কী দরকার? এ সরকার এখন জনগণের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সরকারের কবল থেকে রক্ষা পেতে জনগণ এখন আল্লাহ, ঈশ্বর ও ভগবানকে ডাকছেন। জনগণ তাদের হাত থেকে বাঁচতে চায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, দুদক হল সরকারের পদলেহী সংস্থা। এটা দুর্নীতি দমন কমিশন নয়, এর নাম হওয়া উচিত মিথ্যাবাদী কমিশন। কারণ এরা শুধু বিরোধী দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালায়। সরকার যা বলে তারা তাই করে। অথচ সরকার যে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে দুদক তা দেখে না। এজন্য জনগণ দুদকের কথা এখন আর বিশ্বাস করে না, বিদেশিরাও না। খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকার দুর্নীতিবাজ, বিশ্বচোর, খুনি, গুমকারী ও ব্যর্থ। বিশ্বচোরদের দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়, দ্রব্যমূল্য কমবে না। এই সরকার দলবাজ। তাদের দিয়ে ভালো কাজ সম্ভব নয়। শেয়ারবাজার, পদ্মা সেতু, হলমার্ক ও ডেসটিনির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি করে সরকার দেশকে দেউলিয়া বানিয়ে দিয়েছে। এসব টাকা বাইরে পাচার করা হয়েছে। আমরা জানি এই টাকা কারা কোথায়, কত টাকা পাচার করেছে, পাচার করতে গিয়ে কোন্ বিমানবন্দরে কে ধরা পড়েছে- সময়মতো আমরা সাংবাদিকদের সকল তথ্য দিয়ে জানিয়ে দেব। এই চোরদের হটিয়ে দেশপ্রেমিকদের দিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ সরকার জনগণকে বেশি ভয় পায়। কিন্তু এভাবে জনগণকে কতদিন আটকে রাখবেন। এভাবে বেশিদিন আটকে রাখা যায় না। যে সরকার মানুষকে নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, অন্ন দিতে পারে না, সে সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। বিগত চার বছরে এই সরকার কিছু করতে পারেনি। বাকি এক বছরে তারা কি করবে? শেষ বছরে তারা হয়তো কিছু অর্থ ছাড় করাবে। তবে তা লুটপাট হবে, এর মাধ্যমে অর্থনীতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মানুষ গুম-হত্যা বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, কোথায়, কাকে, কারা গুম-হত্যা করছে সব হিসাব আমাদের কাছে আছে। গুম করে কোথায় নেয়া হচ্ছে তাও আমাদের কাছে তথ্য আছে। যারা এসব করছে কেউ-ই রেহাই পাবে না, সবাই ধরা পড়বে। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই গুম-হত্যার কাজে এখন যাদের ব্যবহার করছেন-একদিন তারাই টেলিভিশনের সামনে এসে আপনাদের অপকর্মের কথা স্বীকার করবে, তখন কোথায় যাবেন। এ সরকার ২১ জন ফাঁসির আসামিকে ছেড়ে দিয়েছে। একদিকে তারা মানুষ হত্যা করছে, আবার ধরা পড়লেও হত্যাকারীরা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কখনও শান্তি দিতে পারে না। '৭২ থেকে '৭৫ পর্যন্ত দেশে ছিল দুর্ভিক্ষ আর রক্ষীবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন। আওয়ামী লীগের ইতিহাস-ই হল দুর্ভিক্ষ, হত্যা, খুন, গুম, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য আর দুর্নীতির। অন্যদিকে বিএনপির ইতিহাস হচ্ছে- উৎপাদন, উন্নয়ন ও জনকল্যাণ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশে বেকারত্ব বাড়ে, দুর্ভিক্ষ হয়। বিএনপি থাকলে মানুষ শান্তিতে ঘুমায়, দেশে কর্মসংস্থান হয়। ছাত্রলীগ-যুবলীগকে 'দানব' আখ্যায়িত করে খালেদা জিয়া বলেন, এরা আর ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নাই, তারা দানব। এরা ফ্র্যাঙ্কেস্টাইন। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নয়, এই দানব সরকারের ঘাড়ে চেপে তাদেরই খেয়ে ফেলবে। এদের হাতেই এই সরকারের বিদায় হবে, বিরোধী দলের দরকার হবে না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, জানতে চাই-যুবলীগ ও ছাত্রলীগের হাতে কেন অস্ত্র দিয়েছেন? তারা কাদের হত্যা করবে? বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের দমন করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ থাকতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের কেন নির্দেশ দিলেন? ছাত্রলীগের কারণে আজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মারামারি, হানাহানি চলছে, শিক্ষকদেরও পেটাচ্ছে ছাত্রলীগ। এই সরকার দলীয় লোকদের ব্যাংক ও টিভি লাইসেন্স দিয়েছে। যারা এসব লাইসেন্স পেলেন, তারা কোটি কোটি টাকা কোথায় পেলেন জনগণ জানতে চায়। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার যুবকদের কাজ দিতে পারেনি। ঘরে-ঘরে যুবকরা চাকরি পায়নি। পেয়েছে আওয়ামী লীগের লুটেরা ও গুন্ডারা। তারা যুবকদের হাতে ফেনসিডিল ধরিয়ে দিয়েছে, যেন অন্যায় কাজ করতে তারা আরও বেশি তৎপর হয়ে ওঠে। শুনেছি সরকারের অনেকেরও নাকি ফেনসিডিলের নেশা আছে, অভ্যাস আছে। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, স্বজন হারিয়ে আর কত কান্নাকাটি করবেন, আর কত চোখের জল ফেলবেন, আর কত গুম হবেন। আসুন সময় এসেছে-এ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার। খালেদা জিয়া বলেন, দেশে বিদেশি বিনিয়োগ না হবার জন্য অর্থমন্ত্রী ড. ইউনূসকে দায়ী করলেন। তাকে দায়ীর করে লাভ নেই। অর্থমন্ত্রীর ও সরকারের ব্যর্থতাই এজন্য দায়ী। বরং ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে ড. ইউনূস হাজার হাজার নারীর কর্মসংস্থার করেছেন। এজন্য তিনি পুরস্কারও পেয়েছেন। ড. ইউনূস বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। এজন্য ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকার গ্রামীণ ব্যাংক থেকে তাকে সরিয়ে দিয়েছে। সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বর্তমান সরকার আসার পর থেকে দেশের কোথাও শান্তি নেই। প্রতিনিয়ত সরকার মানুষ মারছে, না হয় দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ ব্যর্থ সরকার। এই ব্যর্থ সরকার দিয়ে দেশ চলছে না, চলতে পারে না। সরকারের উচিত ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। তত্ত্বাবধায়কের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনে জনগণ যাদের পক্ষে রায় দেবে তারাই দেশ চালাবে জনগণ যদি মনে করে বর্তমান সরকার ভালো কাজ করেছে এবং তাদেরকে ভোট দেয় তাহলেও আমরা কোন আপত্তি করব না। তবে নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে, কোন দলীয় সরকারের অধীনে নয়। তিনি বলেন, দেশের মানুষ এই সরকারের মিথ্যাচার থেকে রক্ষা পেতে চায়। সংসদে প্রতিদিন মিথ্যাচার আর গালিগালাজ ছাড়া কিছুই হয় না। সেখানে আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে নোংরা কথা বলা হয়। তাদের মত নোংরা ভাষায় আমরা কথা বলতে জানি না। কিন্তু মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কাউকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। এ সরকার দেশের পোল্ট্র্রি শিল্পও ধ্বংস করে দিয়েছে। বর্তমান সরকার চার বছরে এবং ফখরুদ্দীন-মইনের সরকার দুই বছরে দেশের অর্থনীতি শেষ করে দিয়েছে। তারা দেশকে অনেকদূর পিছিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র। এখানকার জনসম্পদ ও প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা সম্ভব। বিএনপি ও ১৮ ক্ষমতায় গেলেই তা সম্ভব। তিনি বলেন, এ সরকারের পাঁচ বছরে জিডিপি ৫ শতাংশও হয়নি তা সন্দেহ। কিন্তু মেয়াদ শেষে সরকার মিথ্যাচারের মাধ্যমে বাড়িয়ে ও ফলিয়ে-ফাঁপিয়ে বেশি বলবে। কিন্তু ভেতরে আসলে থাকবে ফোকলা। এই সরকার বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার নষ্ট করে দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মানুষ কাজের জন্য যেতে পারছে না, যারা সেখানে ছিল তারাও খালি হাতে দেশে ফিরছেন। সরকার এর প্রতিবাদও করতে পারল না, এরা কত দুর্বল সরকার। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিমস দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে জনশক্তি রপ্তানি করা হবে। এফবিসিসিআইয়ের বিদায়ী সভাপতি আজাদ (আবুল কালাম আজাদ) আওয়ামী লীগেরই লোক, তিনিই বলেছেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে কল-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। উদ্যোক্তারা মেশিনারিজ আনলেও তা কাজে আসছে না। আজাদই বলেছেন, দেশে ৩৮টি ব্যাংক থাকলেও বিনিয়োগের জন্য টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। এই টাকা সরকার লুট করতে পারে কিন্তু বিনিয়োগের জন্য দিতে পারে না। হলমার্কের ঘটনার পর ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে ঋণও পাচ্ছেন না। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যেসব ব্যবসায়ী ফ্ল্যাট-এ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করেছেন তারা এখন বিপদে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগের অভাবে তারা সেগুলো বিক্রি বা ভাড়া দিতে পারছেন না। এর ফলে তাদের ব্যাংক ঋণের বোঝাও বাড়ছে। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারলে কি কি করা হবে তার বিবরণ তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, ক্ষমতায় যেতে পারলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করব। কৃষকরা তখন তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবে, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংকটের সমাধান করা হবে, বন্ধ কল-কারখানা আবার চালু হবে। গার্মেন্টে যেন শ্রমিকদের আগুনে পুড়ে মরতে না হয়, সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে, যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, দারিদ্র্যতা দূর করা হবে, গ্রামে-গঞ্জে ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে, যেন মানুষ একটি শান্তির দেশ পায়। পাঁচ বছরের মধ্যে আমরা দেশকে সামনের কাতারে নিয়ে যেতে সক্ষম হবো। বিভিন্ন দেশ তখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে। বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি মজবুত হবে, বেকারত্ব দূর হবে। বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি দূর করব। সন্ত্রাস দমন করা হবে। প্রকৃত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব। অতীতে ক্ষমতায় থাকতে বিএনপি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের বর্ণনা দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, আমরাই জিডিপি ৬ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করতে পেরেছি। যা অন্য কেউ করতে পারেনি। দেশে যত বড় বড় ব্রিজ, রাস্তা-ঘাট, রাজধানীর সঙ্গে বিভিন্ন জেলার সংযোগ সড়ক সবই করেছে বিএনপি সরকার। আগামীতেও বিএনপিই তা করতে পারবে। বিচারকদের উদ্দেশ্য করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আপনারা এদেশের নাগরিক। সরকারের অন্যায় উপদেশ না শুনে ন্যায়বিচার করুন, যেন মানুষ সুবিচার পায়। আপনাদের কাছ থেকে আমরা এটাই আশা করি। তিনি বলেন, বিচার বিভাগকে দলীয়করণের কারণে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ধরা পড়লেও ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। অথচ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা দিনের পর দিন চলতে থাকে, তারা জামিন পায় না। দলীয় বিচারক বসানো হয়েছে বিরোধী দলকে শাস্তি দেয়ার জন্য। তিনি বলেন, বিশ্ব এখন তাকিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের দিকে। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেই বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশকে এখন অনেকেরই প্রয়োজন। বিনিয়োগের জন্যও বাংলাদেশকে প্রয়োজন হবে। ১৮ দলীয় জোট ছাড়াও দেশপ্রেমিক সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হই, লুটেরাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করি, দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। তবে এই লুটেরা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আসুন, দেশকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও শান্তির পথে নিয়ে যাই। ১৮ দলের সমাবেশ মঞ্চে খালেদা জিয়ার দুইপাশে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমেদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মজিবুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমেদ, খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) সভাপতি খন্দকার গোলাম মূর্তজা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ন্যাপের সভাপতি জেবেল রহমান গণি, মুসলিম লীগের সভাপতি এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান, ইসলামিক পার্টির সভাপতি আবদুল মবিন, ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি শেখ আনোয়ারুল হক, জমিয়াতে উলামা ইসলামীর মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি ছিলেন। এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মাহবুবুর রহমান, এম কে আনোয়ার, জমির উদ্দিন সরকার, আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান ছিলেন। জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমদ বলেন, দেশে কোন মানুষ ভাল নেই। এই সরকারের দুর্নীতির কথা বলে শেষ করা যাবে না। পদ্মা সেতু, হলমার্ক, সেক্টর কমান্ডার হারুনুর রশীদের ডেসটিনি, সুরঞ্জিত সেনের দুর্নীতি দেশ শেষ করে দিচ্ছে। দেশের মানুষ খুন আর গুমের আতংকে। জামায়াত একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। অথচ আমাদের সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক বলেন, আজ ইমান বাঁচাতে হবে। দেশ বাঁচাতে হবে। এই সরকারকে বিদায় করতে হবে। পুলিশ ভাইদের বলবো, এই সরকারের অন্যায় আদেশ মানবেন না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারেক রহমানসহ আমাদের দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে সরকার। আগামী নির্বাচনে যাতে অংশ নিতে না পারেন সেজন্যই এসব মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। ফখরুল বলেন, নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধ করতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমাদের দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, মিথ্যা মামলায় বিরোধী দলের নেতাদের নির্যাতন করা হচ্ছে। সরকার বিদেশি প্রভুদের খুশি করতে কাজ করছে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আশুলিয়ায় ১২৪ জন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। চট্টগ্রামে ১২ জন নিহত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন পূর্বপরিকল্পিত আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন নাশকতা। তারা দুজনই স্বীকার করেছেন তারা ব্যর্থ। এই ব্যর্থ সরকারকে এর দায় নিতে হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেছেন, এই সরকারের কাছে সুন্দরবনের বাঘও নিরাপদ নয়। আওয়ামী শিকারীরা সুন্দরবনের বাঘও হত্যা করছে। যাদের কাছে এই বাঘও নিরাপদ নয়, তাদের কাছে সাধারণ মানুষ নিরাপদ থাকার প্রশ্নই ওঠে না। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সিঁড়ি দিয়ে আপনি ক্ষমতায় এসেছেন। এই সিঁড়ি সরিয়ে নিলে আপনি নিজেই নামতে পারবেন না। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, বিদেশ থেকে কোকোর নামে টাকা আনা হচ্ছে, তা শেয়ার বাজার, ডেসটিনি এবং হলমার্কের টাকা। সরকারের দুর্নীতি এবং টাকা পাচারের দায় কোকোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা চলছে। লক্ষ তারেক ও কোকো আছে, তাদের নামেও একাউন্ট খুলুন। দেখবো কতো লোকের নামে টাকা পাঠাতে পারেন। ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫ বিএনপির চেয়ারপার্সন বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া ভাষণ দিয়ে চলে যাওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যে সমাবেশ মঞ্চের সামনে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় ছাত্রদলের দুই গ্রুপ। এতে ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। কেন্দ্রীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা সংঘর্ষ থামাতে ব্যর্থ হলেও পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর সমর্থক লালবাগ, চকবাজার ও হাজারীবাগ থানার ছাত্রদল নেতাকর্মীরা পিন্টুর মুক্তির দাবিতে শ্লোগান দিতে থাকলে সেখানে উপস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এক কর্মী এতে বাধা দেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীরাও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিলে একযোগে লালবাগ, চকবাজার ও হাজারীবাগ থানার ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান। সংঘর্ষের সময় জনসভাস্থলের চেয়ার ভাংচুর ও এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের ওপর চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ির ঘটনাও ঘটে। এ সময় আতঙ্কে অনেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে দৌড়াদৌড়ি করতে থাকেন। ছাত্রদল ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা এ সময় সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ব্যর্থ হন। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম মঞ্চ থেকে জিয়ার ওপর শ্লোগান দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করেন। পুলিশ লাঠিচার্জ করলে সংঘর্ষে লিপ্ত নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এরপর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল মাইক হাতে নিয়ে বলেন, আপনারা যে যেখান থেকে এসেছেন শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফিরে যান। যারা এ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, তাদের আমরা চিনতে পেরেছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জামায়াত-শিবিরের শোডাউন ১৮ দলের সমাবেশে শোডাউন করছেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। সকাল থেকেই দলে দলে এসে তারা মঞ্চের আশপাশের জায়গা দখল করে নেয়। সমাবেশে এক থেকে দেড় লাখ নেতাকর্মী জড়ো করার টার্গেট নেয়া হয় বলে দাবি করেছেন জামায়াত নেতারা। মঞ্চের পশ্চিমাংশের বিশাল জায়গা জুড়ে তাদের বেশি উপস্থিতি চোখে পড়ে। দুপুর একটার দিকে রাস্তায় জোহরের নামাজ আদায় করেন তারা। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াত নেতাদের ছবিসহ ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে সরকারবিরোধী শ্লোগান দিয়েছেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। পথে পথে বাধা নয়াপল্টনের সমাবেশে আসতে নেতাকর্মীদের পথে পথে বাধা ও গাড়িতে তল্লাশির নামে হয়রানির অভিযোগ করেছে ১৮ দল। এছাড়া মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের লোকজন নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় তল্লাশি করে প্রায় ২০ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও দাবি বিএনপি'র। সাভার, চিটাগাং রোড, টঙ্গীসহ ঢাকায় ঢোকার প্রবেশপথে পুলিশের লোকজন গাড়িতে উঠে তল্লাশির নামে সময়ক্ষেপণ করেছে বলেও অভিযোগ করে।