চোরের মার বড় গলা

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা গতকাল এক জনসভায় বিরোধী নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, চোরের মায়ের বড় গলা। ভীষণ সৎভাবে জীবনযাপন করে। তার দুইদিন পরই বিদেশে তাদের টাকা ধরা পড়ল.......... আমি ওনাকে বলব, আর গলাবাজি করবেন না।' প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার বিকেলে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী নওয়াব ইনস্টিটিউশন মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকে। এখন দেশের মানুষ শান্তিতে আছে। তাদের এই শান্তি দেখে বিএনপি নেত্রীর মনে অশান্তির জ্বালা শুরু হয়েছে। তিনি সেই আগুনে সারাদেশকে জ্বালিয়ে দিতে চান। দেশের মানুষ তাদের এই সুযোগ দেবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ক্ষমতায় এসে পয়সা চুরি করা, কালোটাকা বানানো, এটাই বিএনপির কাজ। দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে কীভাবে কালো টাকা বানায়, আবার জরিমানা দিয়ে সেই টাকা সাদা করে? তার পুত্ররা যে দুর্নীতি করেছে, বাংলাদেশের অর্থ-সম্পদ নিয়ে বিদেশে পাচার করেছে তা সিঙ্গাপুর-আমেরিকায় ধরা পড়েছে। আমরা সেই টাকা নিয়ে এসেছি। জনগণের টাকা জনগণের কল্যাণে খরচ হবে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই টাকা দুর্নীতি তদন্তে ও দুর্নীতি দমনে ব্যয় হবে।' বিএনপি নেত্রীর নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'উনি বলেছেন ওনার ছেলেরা নাকি ভীষণ সৎভাবে জীবনযাপন করে। তার দুইদিন পরই বিদেশে তাদের টাকা ধরা পড়ল। আসলে চোরের মায়ের বড় গলা। কীরকম মিথ্যা কথা বলে আপনারা দেখেন। সেই চোরের মায়ের বড়গলাই আমরা এখন শুনতে পাচ্ছি, দেখতে পাচ্ছি। আমি ওনাকে বলব, আর গলাবাজি করবেন না। দেশের মানুষ শান্তিতে আছে, শান্তিতে থাকতে দিন।' শেখ হাসিনা বলেন, যারা ক্ষমতায় এসে দেশের উন্নয়নের পরিবর্তে জনগণের টাকা মেরে খায়, কৃষককে গুলি করে হত্যা করে, শ্রমিক মারে, বাসে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারে, গাড়ি থেকে মানুষ নামিয়ে পেট্রল দিয়ে পুড়িয়ে মারে তারা দেশে শান্তি আনতে পারে না। তারা মানুষের জীবনের কোন নিরাপত্তা দিতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় থেকে এই ধরনের অপকর্মই করে গেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা ক্ষমতায় এসে দেশের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য কাজ করে যাচ্ছি, চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পেঁৗছে দিয়েছি। এদেশের ছেলে-মেয়েরা যাতে আধুনিক বিজ্ঞানের শিক্ষা পায় সেজন্য কাজ করছি। আমরা বলেছিলাম, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ব, উপজেলা পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা দেব। কিন্তু আমরা ইউনিয়নে ইউনিয়নে ইন্টারনেট সার্ভিস দিতে পেরেছি। আমরা ২০ হাজার স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু করেছি। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে আমরা নতুন নতুন বিল্ডিং করে দিচ্ছি, নতুন নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছি। আমরা লেখাপড়ার পরিবেশ করে দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখবে। আধুনিক প্রযুক্তির শিক্ষা যাতে পায় এজন্য গ্রামে গ্রামে কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। তিনি আরো বলেন, আগামী জানুয়ারি মাসেই ২৭ কোটি বই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। আমরা শিক্ষানীতি করেছি, শিক্ষার মানোন্নয়ন ঘটিয়েছি। এসএসসি ও এইচএসসিতে পাসের হার বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে আমরা ১০ টাকা কেজি চাল রেখে গিয়েছিলাম। বিএনপি ক্ষমতায় এসেই তা ৩৮/৪০টাকায় বাড়িয়েছে। আমরা এসে দেশের আর্থিক উন্নয়ন ঘটিয়েছি। ব্যাংকের রিজার্ভ এখন ১২ বিলিয়নের ওপর। দেশে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি, দেশের মানুষ বিদেশে নতুনভাবে চাকরি পাচ্ছে। এবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সমুদ্র বিজয় করে বিশ্বের কাছে দেশের ভাবমূর্তি বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় এসব নিয়ে ভাবেনি। এই বাংলাদেশকে তারা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও বাংলাভাইয়ের অভয়ারণ্য বানিয়েছিল। আমরা সেসব দূর করেছি। শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বিরোধীদল যতই জ্বালাও পোড়াও আর মানুষ খুনের রাজনীতি করুক না কেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই। যুদ্ধাপরাধীরা মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা করেছে। এদেশের মা-বোনের ইজ্জত নিয়েছে। সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে লুটপাট করেছে। তাদের বিচার হবেই। যেভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের বিচার করা হয়েছে সেভাবেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই হবে, ইনশাল্লাহ। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'জাতির পিতার খুনিদের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছিলেন, পারেন নাই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও বাধাগ্রস্ত করতে পারবেন না। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎও উৎপাদন করে যায়নি। আমরা ক্ষমতায় এসে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছি। নৌকায় ভোট দিলে দেশে শান্তি ফিরে আসে আর বিএনপিকে ভোট দিলে আশান্তি আসে। নির্বাচন প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ভোট চুরিতে বিশ্বাসী নই। আমাদের সময়ে যত নির্বাচন হয়েছে সব নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ বদিউল আলম মঞ্জুর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন প্রমুখ। জনসভার আগে প্রধানমন্ত্রী ১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ধনবাড়ী উপজেলা আধুনিক কমপ্লেঙ্ ভবনের উদ্বোধন করেন এবং ধনবাড়ী মডেল থানা ভবন ও ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।