জয়নগর ইউপির জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে কাজ

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবন জরাজীর্ণ ও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বাঁশের ঠেকনা দিয়ে রাখা হয়েছে ভবনটির ছাদ। এরকম ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে দাপ্তরিক কাজ। জানা গেছে, বর্তমান জরাজীর্ণ ভবনটি ১৯৭৮ সালে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত। এর ৫টি কক্ষের একটিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, সচিব ও সদস্যরা। একটি কক্ষ লাইব্রেরি হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। অপর তিনটি ইতিমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়েছে। ভবনের ছাদে সৃষ্ট ফাটল দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ, লাইব্রেরির বই ও আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে। দেয়ালের আস্তর খসে পড়ছে। যে কোন মুহূর্তে ভবনটি ভেঙ্গে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। ইউপি সচিব কামরুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৮ সালে নির্মাণের পর সংস্কার না হওয়ায় ভবনটি জোড়াতালি ও বাঁশের খুঁটিতে কোনমতে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। ধসে পড়ার আশঙ্কায় জনগণ ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে চায় না। ফলে কৃষি, প্রাণিসম্পদ, পরিবার পরিকল্পনা ও আনসার ভিডিপিসহ বিভিন্ন সংগঠনের কার্যক্রম চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ইউপি তথ্যসেবা উদ্যোক্তা ইউপি ভবনের পরিবর্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সমন্বয়ে কানপাড়া বাজারে ঘরভাড়া নিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বর্তমান চেয়ারম্যান ইসরাফিল হোসেন বলেন, ইউপি ভবন জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভিজিডি ও ভিজিএফ কার্ডধারীসহ সাধারণ মানুষও ভেতরে প্রবেশ করতে চান না। স্থানের অভাবে ভিজিডি-ভিজিএফসহ বিভিন্ন প্রকল্পের চাল ও গম যথাসময়ে উপজেলা গোডাউন থেকে উত্তোলন সম্ভব হয় না। এলাকার শালিস-দরবার, উন্নয়ন সমন্বয়সহ বিভিন্ন সভা করতে হচ্ছে অন্যত্র কিংবা খোলা মাঠে। শরিক ও সচেতন প্রকল্পের দু:স্থ ও হতদরিদ্র মহিলাদের প্রশিক্ষণ হচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খোলা মাঠে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল এস,এম মিজানুর রহমান বলেন, জয়নগর ইউপি ভবন নির্মাণে দুইবার অনুমোদন এসেছিল। এরপর টেন্ডারও আহবানের করা হয়েছিল। কিন্তু নানা জটিলতা তা স্থগিত হয়ে যায়। পুনরায় মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন আসলে ভবনটি নির্মাণ করা হবে।