সিম নিবন্ধনের ফাঁকফোকর

বৃহস্পতিবার মধ্যরাত হইতে ভোর ছয়টার মধ্যে প্রায় সাড়ে বিশ লক্ষ মোবাইল সিম বন্ধ করিয়া দিয়াছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে একজন গ্রাহকের নিবন্ধনকৃত ১৫টি সিমের অতিরিক্ত এই সংখ্যক সিম নিষ্ক্রিয় করা হয়। প্রথমদিকে,  ২০১৬ সালের জুন মাসে, একজন গ্রাহকের বিপরীতে ২০টি সিম নির্ধারণ করা ছিল। পরবর্তীসময়ে এই সংখ্যা কমাইয়া পাঁচটি করা হইলেও সেই সিদ্ধান্তও পরিবর্তন হয়। সর্বশেষ ২০১৭ সালে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়া ১৫টি সিম নিবন্ধনের জন্য নির্ধারণ করা হয়। মোবাইল ফোনকেন্দ্রিক অপরাধ ঠেকাইতে জাতীয় পরিচয়পত্র ও আঙুলের ছাপ দিয়া বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম রেজিস্ট্রেশনের বিষয়টি প্রথম হইতেই প্রশংসিত হয়। অনেক রকম প্রতিবন্ধকতা থাকিলেও এই প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর। ইহার পূর্বে নিয়মের ফাঁকফোকর দিয়া যে কেহ ভিন্ন নামে সিম ক্রয় করিতে পারিত। এই কারণে বড় অপরাধী ব্যতীত সাধারণ অপরাধীদের মোবাইল ফোন কেন্দ্রিক অপরাধের অনুসন্ধানে কখনো সখনো জটিলতা বাড়িত। সুতরাং বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম রেজিস্ট্রেশনের বিষয়টি ছিল অত্যন্ত যুগোপযোগী। বর্তমানে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে ১৫টির অধিক সিম নিবন্ধিত থাকিলে শেষেরগুলি বাতিল করিবার বিষয়টিও প্রশংসাযোগ্য। তবে ইহার পরও কিছু কথা থাকিয়া যায়।

পুলিশের একাধিক সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায় যে, শতকরা ৯৫ ভাগ অপরাধী এখন অন্যের নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম ব্যবহার করিয়া অপরাধ সংঘটিত করিতেছে। অর্থাত্ অন্যের নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম ব্যবহার করিয়া অপরাধ করিবার প্রবণতা খুব বেশি কমে নাই। এখন প্রশ্ন হইল, কোনো ব্যক্তি যদি নিজের জ্ঞাতসারেই নিজের এনআইডি হইতে ২০টি সিম নিবন্ধন করিয়া থাকেন, তবে তাহাতে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নাই। অবশ্য, সর্বশেষ নিয়ম অনুযায়ী তাহার নিবন্ধন করা শেষ পাঁচটি সিম বন্ধ হইয়া যাইবার কথা; কিন্তু এখন যদি কাহারো অজ্ঞাতে একাধিক সিম নিবন্ধন করা হয় এবং সেই সংখ্যাটি যদি ওই ১৫টি সিম নিবন্ধনের মধ্যেই থাকে, তবে সেই অজ্ঞাত সিমগুলি কিন্তু বন্ধ হইবে না। ইতোমধ্যে জানা গিয়াছে যে, সাধারণ আমজনতার ভিতর হইতে তুলনামূলক সহজ-সরল বয়স্ক অশিক্ষিত কিংবা গরিব কেহ যখন তাহার নামের নূতন কোনো সিম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করিতে আসেন, তখন অনেক সময় ওই ব্যক্তির অজ্ঞাতসারে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাহার নামে আরো একাধিক সিম নিবন্ধন করিয়া রাখা হয়। অতঃপর ওই অতিরিক্ত নিবন্ধিত সিমটি একটু বেশি মূল্যে বিক্রয় হইয়া যায় অপরাধীদের নিকট। তাহারা তখন ওই সিম ব্যবহার করিয়া মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, জঙ্গি কার্যক্রম হইতে শুরু করিয়া বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ সংঘটিত করিয়া থাকে। সুতরাং ইহারও একটি বিহিত হওয়া দরকার। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে কতটি মোবাইল সিম নিবন্ধন করা হইয়াছে তাহা *১৬০০১# নম্বর ডায়াল করিয়া বা জাতীয় পরিচয়পত্রের শেষ চারটি ডিজিট লিখিয়া ১৬০০১ নম্বরে মোবাইল হইতে এসএমএস পাঠাইয়া জানা যাইবে। সাধারণ জনগণকেও এই ব্যাপারে সচেতন হইতে হইবে।