সারাদেশে ৮০ লাখ ৫৩ হাজার হেক্টরে রবিশস্য চাষের কর্মসুচি
বিমল সাহা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১২, ২১:১৭
চলতি মৌসুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সারাদেশে ৮০ লাখ ৫৩ হাজার হেক্টরে বোরো, গম, আলুসহ বিভিন্ন প্রকার রবিশস্য চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে। ইতিমধ্যে রবিশস্য চাষ শুরু হয়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঢাকা খামারবাড়ির এক উর্ধতন সুত্রে জানা যায়, ৪৭ লাখ ৮০ হাজার হেক্টরে বোরো চাষ করা হবে। এরমধ্যে ৬ লাখ ৬০ হাজার হেক্টরে হাইব্রিড, ৪০ রাখ ৭৫ হাজার হেক্টরে উচ্চফলনশীল ও ৪৫ হাজার হেক্টরে স্থানীয় জাতের বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। হেক্টর প্রতি হাইব্রিডের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৪ দশমিক ৭৭ মেট্রিক টন, উফশী ৩ দশমিক ৮১ মেট্রিক টন ও স্থানীয় জাতের এক দশমিক ৯৪ মেট্রিক টন। এবার দেশে বোরোর মোট উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে এক কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টন (চাল)। তবে বোরো চাষের সফলতা নির্ভর করবে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সেচ সুবিধার উপর।
গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার হেক্টরে। আর গমের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ১০ লাখ ৩৬ হাজার টন। গমের হেক্টর প্রতি ফলন ধরা হয়েছে দ’ু দশমিক ৮০ মেট্রিক টন। দেশে গম চাষের পরিমান কমছে। আড়াই লাখ হেক্টরে ভুট্টা চাষ করে ১৮ লাখ টন ভুট্টার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। দেশে ভুট্টার চাষের পরিমান ও উত্পাদন বাড়ছে কয়েক বছর ধরে। সাড়ে ৪ লাখ হেক্টরে আলু চালু চাষের মাধ্যমে ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার টন আলুর উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। মিষ্টি আলু চাষ করা হবে ৪৫ হাজার হেক্টরে। মিষ্টি আলুর উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৬ লাখ ২০ হাজার টন।
এক লাখ ৬০ হাজার হেক্টরে মসুর, ৪ হাজার হেক্টরে ছোলা, ৪৯ হাজার হেক্টরে মাসকালাই, ৫০ হাজার হেক্টরে মুগ ও ২ লাখ ৬০ হাজার হেক্টরে খেশারি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এবার দু’ লাখ টন মসুর, ৯ হাজার টন ছোলা, ৪৯ হাজার টন মাসকালাই, এক লাখ টান মুগ ও দু’ লাখ ৪৭ হাজার টন খেশারি ডাল উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ৪ লাখ ৯০ হাজার হেক্টরে সরিষা ও ৮২ হাজার হেক্টরে চিনা বাদাম চাষ করে ৫ লাখ ৮৮ হাজার টন সরিষা ও এক লাখ ১৯ হাজার টন চিনা বাদাম উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ডাল জাতীয় ফসল ও সরিষা চাষ পুরাদমে শুরু হয়ে গেছে।
এক লাখ ৮৫ হাজার হেক্টরে পিঁয়াজ, ৭০ হাজার হেক্টরে রসুন ও ৩৫ হাজার হেক্টরে ধনিয়া চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ১৯ লাখ ৬১ হাজার টন পিঁয়াজ, ৪ লাখ ৫৫ হাজার টন রসুন ও ৪০ হাজার টন ধনিয়া উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য় করা হয়েছে। এবার ৪৫ হাজার হেক্টরে হলুদ ও ২০ হাজার হেক্টরে আদা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা করা হয়েছে। এক লাখ ৬৭ হাজার টন হলুদ ও দু’ লাখ ৪ হাজার টন আদার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এক লাখ ৫৫ হাজার হেক্টরে শীতকালীন মরিচ চাষ করে দু’ লাখ ৯ হাজার টন মরিচ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। শীতকালীন শাক সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার হেক্টরে। শাক সবজির উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৮ লাখ ৮৩ হাজার টন। এবার আগাম সবজি চাষ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শিম, লাউ, পালংশাক ও বরবটি বাজারে উঠতে শুরু করেছে। বাজারে সবজির দামও হ্রাস পেয়েছে।