আশুলিয়া ট্রাজেডি
তাসলিমার মরদেহ
পায়নি তার পরিবার
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১২, ২১:৩৩
আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশনস ট্রাজেডির শিকার নওগাঁর সাপাহার উপজেলার তাঁতইর পাকুড়ডাঙ্গা গ্রামের তাসলিমা বেগমের (২৫) মরদেহ সনাক্ত করতে পারেনি তার পরিবারের সদস্যরা। এ অবস্থায় তাসলিমার মরদেহ পরিচয়হীন শ্রমিক হিসাবে ঢাকার জুরাইন কবরস্থানে জায়গা পেয়েছে নাকি আগুনের লেলিহান শিখায় মরদেহ ছাই হয়ে গেছে তা জানে না তাসলিমার অভিভাবক ও তার পরিবারের সদস্যরা। তাসলিমার বাবা জাকারিয়া হাবিব জানান,তাজরিন ফ্যাশনস হাউসে কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় গত শনিবার সন্ধ্যায় সে ওই দুর্ঘটনায় পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে আটকাবস্থায় থেকে সে তার ছোট ভাই শাহীনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে।
এ সময় তাসলিমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাহীনকে মন দিয়ে পড়াশোনা করতে বলে এবং তার জন্য দোয়া করতে বলে কারখানায় আগুন লাগার খবর দেয়। জাকারিয়া হাবিব আরো জানান, কারখানার ভিতরে যখন দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল তখন তাসলিমা মৃত্যু নিশ্চিত জেনে শেষবারের জন্য তার ননদ সুরাতনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে স্বামী কামালকে বিষয়টি জানাতে বলে এবং তাকে উদ্ধারের অনুরোধ করে। তাসলিমার স্বামী কামালউদ্দিন জানান, বোনের কাছ থেকে খবর পেয়ে সে ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাসলিমার ফোনে কল করেন। কিন্তু তার ফোন রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বাজতে থাকলেও ফোনটি কেউ রিসিভ করেনি।
নিহত দুই নারী শরণখোলার
শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, ঢাকার আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন গার্মেন্টসে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১১১ জন হতভাগার মধ্যে বাগেরহাটের শরণখোলার দুই নারী শ্রমিক রয়েছেন। এমিলি বেগম (৩৫) ও লাকি বেগম (২৬)। আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় তাদের লাশ সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। এমিলির স্বামী উপজেলার গোলবুনিয়া গ্রামের মালেক ফরাজী বলেন, আমার স্ত্রী তাজরীন গার্মেন্টসে চতুর্থতলায় কাজ করছিল। ওইদিন বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মোবাইলে তার সঙ্গে শেষ কথা হয় আমার। আমাদের এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে সুখের সংসার ছিল। মাকে হারিয়ে ছেলেমেয়েরা অসহায় হয়ে পড়েছে।
লাকির স্বামী একই গ্রামের কবির গাজী বলেন, ঘটনার সময় লাকি ওই গার্মেন্টসের তৃতীয় তলায় তোহা গ্রুপে কর্মরত ছিল। আমিও একই এলাকার চাঁদপুর সোয়েটারে কাজ করি। অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে স্ত্রীর মোবাইল ফোনে বহুবার কল করি। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। এখন একমাত্র ছেলে সানিকে (৭) নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি।