ঝিনাইদহে গ্রামীণ সড়কের বেহালদশা

ঝিনাইদহ জেলা জুড়ে গ্রামীণ সড়কগুলোর বেহালদশা হয়ে পড়েছে। অর্থাভাবে এলজিইডির রাস্তাগুলো সংস্কার ও মেরামত করা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই অনেকগুলো রাস্তা ভেঙ্গেচুরে যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সৃষ্টি হয়েছে জনদুর্ভোগ। জানা যায়, এলজিইডির অধিন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়ক মিলিয়ে মোট রাস্তার সংখ্যা ১৬শ’ ৭৭টি। এ সকল রাস্তার দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৯শ’ ৭৬ কিলোমিটার। রাস্তাগুলোর মধ্যে পুরোপুরি পাকা দুশ’ ৩৩টি, আধা পাকা রাস্তার সংখ্যা ৩শ’ ৩০টি এবং কাঁচা রাস্তা ১১ শ’ ১১টি। এসব পাকা রাস্তার বেশির ভাগ নির্মিত হয় পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প-১৬ এর আওতায়। এরপর পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প-২৫ এর আওতায়ও সড়ক নির্মিত হয়। সড়কগুলো নির্মাণের পর মেরামত ও সংস্কার কাজে সামান্য টাকা বরাদ্দ আসে। এ টাকায় সবগুলো সড়ক মেরামত করা যায় না। ফলে রাস্তাগুলো ভেঙ্গেচুরে আছে। কোন কোন রাস্তায় হাঁটু সমান গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গত অর্থ বছরে রাস্তা সংস্কার ও মেরামতের জন্য ১৬ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। চলতি অর্থ বছরে ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রকিব-উল-আলম জানান, প্রয়োজনের শতকরা মাত্র ২৫ ভাগ অর্থ রাস্তা মেরামত ও সংস্কার কাজে বরাদ্দ আসে। তিন বছর পরপর রাস্তা মেরামত করা হয়ে থাকে। যে টাকা পাওয়া যায় তা দিয়ে রাস্তার পুরো মেরামত করা যায় না। আংশিক মেরামত করা হয়। ফলে এক বছর যেতে না যেতেই ফের খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। গত অর্থ বছরে ঝিনাইদহ জেলায় এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় দুশ’ ৩টি স্কিমের বিপরীতে ৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ আসে। এলজিইডির একটি রাস্তা একবারে নির্মাণ করা হয় না। কয়েক বছর ধরে পর্যায়ক্রমে নির্মিত হয়।