বিশ্ব শান্তির জন্য ইসলামের নির্দেশনা

(পূর্ব প্রকাশের পর) সূরা আশ শুরার ৪১-৪৩নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আর যে উত্পীড়িত হওয়ার পর সমান প্রতিশোধ গ্রহণ করে, এরূপ লোকদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। অভিযোগ কেবল তাদের বিরুদ্ধে যারা মানুষের ওপর অত্যাচার করে এবং পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করে বেড়ায়। এরূপ লোকদের জন্যই রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। আর যে ব্যক্তি ধৈর্যধারণ করে এবং ক্ষমা করে দেয়, তা অবশ্যই দৃঢ় সংকল্পেরই কাজ।’ যখন কেউ উদারতাকে কাপুরুষতা মনে করে এবং অন্যায় বাড়িয়ে দেয় তাহলে কেবল তখনই আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়ার অনুমতি দিয়েছে ইসলাম। হযরত সোলায়মান (আ.) বলেন, ‘নিজেই প্রতিশোধ নিও না, আল্লাহর অপেক্ষা কর। তিনি তোমাকে রক্ষা করবেন।’ শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে হতাশা নয়, প্রয়োজন মজবুত ঈমান ও ঐক্যঃ মুসলমানদের দায়িত্ব হলো ইসলাম তথা শান্তি প্রতিষ্ঠা করার সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাওয়া। পার্থিব সফলতা ব্যর্থতার চিন্তা বান্দাকে করতে বলা হয়নি। বান্দা যদি মনে প্রাণে ইসলাম নামক নেয়ামতের প্রসার কামনা করে ও সে লক্ষ্যে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে তখন ইসলামের ব্যাপ্তি দান করার দায়িত্ব আল্লাহর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন যারা সীসানির্মিত প্রাচীরের ন্যায় আল্লাহর পথে (অর্থাত্ ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য) সারিবদ্ধভাবে চেষ্টা করে’ (৬১/সূরা আস সফ-৪)। কাজেই পার্থিব জীবনে ও পরকালীন অনন্ত সময়ের চিরস্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে মুসলমানদেরকে সকল হতাশা থেকে মুক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় ঐক্য ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতে হবে। অশান্তিময় বিশ্বে শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছিল ইসলাম। কিন্তু সে বার্তা যদি কিতাবেই সীমাবদ্ধ থাকে, যদি চরিত্রে এর যথাযথ প্রতিফলন না ঘটে, তাহলে শান্তিময় বিশ্ব কল্পনাতেই থেকে যাবে। মানবতাকে করুণ পরিণতি থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সকল ধারণা-অনুমান, বাদ-মতবাদ, আর ভ্রান্তির বেড়াজালকে ছিন্ন করে সবাইকে ফিরে আসতে হবে ‘সাওয়াউস সাবীল’ তথা সত্য সঠিক খোদায়ী পথে। অন্যায়, অসত্য, অত্যাচার, অবিচার, হিংসা, অহংকার, একগুয়েমী, গোঁড়ামী, চরমপন্থা, উগ্রতা ও সন্ত্রাসসহ সকল চরিত্রহীনতা থেকে বিশ্বকে মুক্ত করতে হলে প্রয়োজন— ইসলামের যথার্থ জ্ঞান, অবিচল বিশ্বাস, উত্তম চরিত্র ও কর্ম, আন্তরিকতা, ধৈর্য, মজবুত ঐক্য ও ভাতৃত্ববন্ধন সহকারে ব্যক্তিগত জীবন থেকে আন্তর্জাতিক জীবনের প্রতিটি স্তরে শান্তির বিধান ইসলামকে প্রসার করার আপ্রাণ চেষ্টা করা। তাহলেই প্রকৃত শান্তি, সম্প্রীতি, উদারতা ও পরমত-সহিষ্ণুতায় বিশ্বাসীদের আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বিশ্ববাসী সন্ত্রাসসহ সকল অপরাধ থেকে মুক্ত হয়ে শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করবে।