বিএমএ নির্বাচন
ময়মনসিংহে দুই পক্ষে
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া প্যান্ডেল ভাংচুর
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১২, ২২:২৮
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ভাংচুরের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বিএমএ’র কেন্দ্রীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে আজিজ-জাহিদ পরিষদের নেতৃবৃন্দ গতকাল বেলা ২টার দিকে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে আজিজ-জাহিদ পরিষদের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ডাঃ মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, ডাঃ সাইয়েদুর রহমান, ডাঃ অলিউল্লাহ, ডাক্তার শাহিনসহ শতাধিক ডাক্তার ব্যালট ছিনতাই ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন।
এই নির্বাচনে বিএনপি ও ছাত্রদল আজিজ-জাহিদ পরিষদের ব্যানারে মাহমুদ-ইকবাল পরিষদের বিরুদ্ধে ব্যাপক কারচুপি, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও মেশিনে গণনার অযোগ্য করার উদ্দেশ্যে ব্যালট পেপার মুচড়ে দেয়ার অভিযোগ করে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয় এবং আজিজ-জাহিদ পরিষদের প্যান্ডেল ব্যাপক ভাংচুর করে। এই ঘটনার রেষ ধরে ছাত্রদল পুনরায় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা চালালে সংঘর্ষ বাধে। কিছুক্ষণের মধ্যে কলেজ গেটের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চরপাড়া এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। প্রায় এক ঘণ্টা চলার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হয়।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ছাপানো ত্রুটিপূর্ণ ব্যালট পেপার ও ভোট কেন্দ্রর বুথে ওই ত্রুটিপূর্ণ ব্যালট পেপার সরবরাহের ফলে গতকাল বৃহষ্পতিবার সকালে ভোট গ্রহনের শুরুতেই কুষ্টিয়া বিএমএ শাখার নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের হলরুমে সকাল ৮ টার সময় ভোট প্রদানের সময় একজন ভোটার ত্রুটিপূর্ণ ব্যালট পোপার সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে নির্বাচন কমিশনার ভোট স্থগিত ঘোষনা করেন। তবে কারসাজির মাধ্যমে ব্যালট পেপারে ত্রুটি ও অসঙ্গতি করা হয়েছে বলে বিএনপি সমর্থিত ডক্টরস্ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) প্যানেলের প্রার্থীসহ অন্যান্য ভোটাররা অভিযোগ করেন।
কুষ্টিয়া বিএমএ শাখার নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২২টি পদের জন্য আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ (স্বাচিপ) সমর্থিত ডাক্তার জামাল উদ্দিন মোল্লা- আমিনুল হক রতন পরিষদ,বিএনপি সমর্থিত ডক্টরস্ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) সমর্থিত ডাক্তার আব্দুল হান্নান-ফজলুল হক পরিষদ ও সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রফেসর ডাক্তার মুস্তানজিদ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী হন। নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল ১৮৮। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহনের সময়সীমা ছিল।