ওয়ানডে সিরিজে ভাল করতে চায় বাংলাদেশ

অনুশীলনের সময় প্রত্যেক খেলো-য়াড়কে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন কোচ শন জার্গুসেন। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের ভুলগুলো ধরার চেষ্টা করেছেন। কারণ ক’দিন আগেই বড় ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হেরেছে দলটি। সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি। তবুও মুশফিকরা চাইছেন ‘অনুপ্রেরণা’কে পুঁজি করে আজ শুক্রবার প্রথম ওয়ানডে খেলতে। কিন্তু কিসের অনুপ্রেরণা? যার শক্তিতে টেস্ট সিরিজ হারকেও অতীত বলতে চাইছেন তারা। অনুশীলনের পর অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম সংবাদ সম্মেলনে নিজেই সেই রহস্যের জট খুললেন। চলতি বছর মার্চে এশিয়া কাপে ভারত ও শ্রীলংকার মত বড় দলগুলোকে হারিয়ে রানার্সআপ হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই অনুপ্রেরণার শক্তিতেই আজ মাঠে নামবে মুশফিকের দল। এছাড়া এশিয়া কাপ ফাইনালের পর আর কোন ওয়ানডে খেলেনি তারা। তাই সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও। তবে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ইনজুরি দলটিতে বাড়তি ভীতি ছড়িয়ে দিতে পারে। আবার আইসিসির ওয়ানডের নতুন নিয়ম বাংলাদেশের জন্য ‘শাপে বর’ হতে পারে। এসব শংকাই কাল অনুশীলনের সময় প্রতিটি খেলোয়াড়ের চেহারায় ফুটে উঠেছিল। তবুও তারা জয় চায়, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিজেদের মাটিতে শিক্ষা দিতে চায়। গত ৩০ অক্টোবর আইসিসি ওয়ানডে ম্যাচে নতুন নিয়ম ঘোষণার পর বাংলাদেশের এটাই আন্তর্জাতিক প্রথম ওয়ানডে। নিয়মগুলোর মধ্যে দু’টি নিয়মের সাথে মুশফিকরা একেবারে অচেনা। প্রথমত ওভার প্রতি দু’টি বাউন্স ও নন পাওয়ার প্লেতে বাউন্ডারিতে চারজন ফিল্ডার রাখতে হবে। বেশি ভোগাবে বাউন্স বল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা ১৫০ মাইল বেগে বল করেন ঠিকই কিন্তু সেগুলো যখন বাউন্স হয় তখন আটকানো কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানালেন মুশফিক। তার সরল স্বীকারোক্তি, ‘আমরা লিগে ১২০ কিংবা ১৩০ মাইল বেগের বল খেলে থাকি। কিন্তু এখানে খেলতে গেলে আরো দশ মাইল বেগ বেড়ে যায়। এখানেই আমরা পেছনে পড়ে যাই।’ তাই বলে নতুন নিয়মে ভীত নন স্বাগতিকরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি যেমন আইসিসির নতুন নিয়মের কারণে স্কোরবোর্ডে ৩০০ রানের স্বপ্ন দেখছেন, তেমনি বাংলাদেশও আজকের ম্যাচ নিয়ে স্বপ্ন দেখছে। সাকিববিহীন বাংলাদেশকে স্বপ্ন দেখাতে পারেন নাঈম, নাসির, তামিম, মুশফিকরা। সাকিবের বিকল্প হিসেবে মোমিনুল হককে দলে নিলেও আজ তার খেলা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গে জহুরুল ইসলাম খেললে মোমিনুলকে ড্রেসিংরুমে বসে থাকতে হতে পারে। অন্যদিকে আজ অভিষেক হচ্ছে অফ-স্পিনার সোহাগ গাজীর। টেস্ট অভিষেককে স্মরণীয় করে রেখেছেন, আজ ওয়ানডে ম্যাচেও তাই করতে চান তিনি। কিন্তু সেটা করতে প্রয়োজন নিজের পছন্দমত উইকেট। খুলনায় যে উইকেটের প্রত্যাশা ছিল, কোন দলেরই তা পূরণ হয়নি। নতুন ভেন্যু-কিন্তু আইসিসির নতুন নিয়মের সাথে থাকবে বাড়তি চাপও। সেই চাপকে জয় করতে চাইছে বাংলাদেশ। বিদেশি দলগুলোর সাথে বাংলাদেশের ব্যবধান যোজন-যোজন। অতীত রেকর্ডও সবসময় বাংলাদেশের বিপক্ষে। এবার আরো একটি রেকর্ড করতে চাইছে-তবে সেটি স্বাগতিক হিসেবে। ক্যারিবীয় দলের বিপক্ষে ২০টি ওয়ানডে ম্যাচে চারটি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ওদের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশও ছিল। এবার আরো একটি হোয়াইটওয়াশ চাইছে তারা। তবে সেটি অপ্রকাশ্যে। মুখে না বললেও মুশফিকরা চাইছেন সবগুলো ম্যাচ জিততে। অন্যদিকে জয় চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজও। কাল অনুশীলনে গোটা দলকে এতটা নির্ভার কখনোই মনে হয়নি। প্রতিপক্ষকে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ তো করেছেই, সঙ্গে দুই টেস্টে রয়েছে দলের সাতটি সেঞ্চুরি। প্রত্যেকেই ফর্মে আছেন। সঙ্গে যোগ দিয়েছেন লেন্ডল সিমন্স, আন্দ্রে রাসেল, ডুয়েন স্মিথ ও কেমার রোচ। নতুনদের পেয়ে স্যামি যেন আকাশে উড়ছেন। কাল বাংলাদেশি স্পিনারদের হাল্কাভাবে হুমকিও দিলেন স্যামি। সংবাদ সম্মেলনে ক্যারিবীয় অধিনায়ক জানালেন, ‘স্বাগতিকরা যেভাবেই আক্রমণ করুক না কেন তার জন্য তার দল প্রস্তুত থাকবে।’