সড়ক বন্ধ করে বিএমএ নির্বাচন ও বেকার নার্সদের অনশন

বিএমএ নির্বাচন উপলক্ষে প্রেসক্লাবের উল্টো দিকের রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। একইভাবে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা বেকার নার্সেস এসোসিয়েশনের সদস্যরা প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তার অংশে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনের জন্য অবস্থান নেয়। পাশাপাশি বিএমএ নির্বাচনে আগত অনেক চিকিত্সক তাদের রেডক্রিসেন্ট খচিত গাড়ি প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় পার্ক করে। ফলে সচিবালয় সংলগ্ন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় অসহনীয় যানজট। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ থাকায় নগরীর বেশিরভাগ সড়কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে গতকাল ঢাকা ছিল কার্যত যানজটের নগরী। জাতীয় প্রেসক্লাবে আগত সাংবাদিকরা যেমন ক্লাবে প্রবেশে বিড়ম্বনার শিকার হন তেমনি সচিবালয়, মতিঝিল অফিস পাড়ায় আসার উদ্দেশ্যে সকালে রওনা হওয়া যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ২-৩ ঘন্টা বেশি। পুলিশ সদস্যরা শত চেষ্টা করেও যানজট নিরসনে ব্যর্থ হন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা: মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের আশ্বাসে অনশনরত নার্সরা গতকাল দুপুর আড়াইটায় অনশন ভঙ্গ করে অবস্থান তুলে নিলে প্রেস ক্লাবের সামনের অংশে যান চলাচল শুরু হয়। ফলে বিকাল তিনটার পর থেকে যানজট কিছুটা লাঘব হতে শুরু হয়। এ ছাড়া বিএমএ নির্বাচন আয়োজনে চরম অব্যবস্থাপনার কারণে চিকিত্সক ও জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঢাকা মহানগরীর সকল হাসপাতালের ভোটারদের জন্য জাতীয় প্রেস ক্লাবের উল্টোদিকের বিএমএ ভবনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক তরুণ ও নারী ভোটারসহ ব্যাপক ভোটার সমাগম ঘটে। চিকিত্সক ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুটি প্যানেলের হাজার হাজার সদস্য ও সহযোগীরা বিএমএ ভবনের সামনে ভিড় জমায়। সঙ্গে ছিল উভয় প্যানেলের বিপুলসংখ্যক অচিকিত্সক কর্মী-সমর্থক। এছাড়া কার্যদিবসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বাড়ে। এ বছর বিএমএ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের (স্বাচিপ) ব্যানারে একটি প্যানেল এবং বিএনপি সমর্থিত ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ব্যানারে অপর একটি প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মাহমুদ হাসান ও স্বাচিপের মহাসচিব বিএসএমএমইউর বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: ইকবাল আর্সলান যথাক্রমে সভাপতি ও মহাসচিব পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অপরদিকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালের এনেসথেসিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা:একেএম আজিজুল হক ও বিএমএর সাবেক মহাসচিব ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সাবেক ইউরোলজির অধ্যাপক ডা: এজেডএম জাহিদ হোসেন যথাক্রমে সভাপতি ও মহাসচিব পদে বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ বছর অন্য কোন প্যানেল বিএমএ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এবারের বিএমএ নির্বাচনে ঢাকা শহরের ১৩ হাজার ৩৩৮ জন ভোটারসহ মোট ভোটারের সংখ্যা ৩২ হাজার ৮৯২ জন। বিএমএর অর্গানোগ্রাম অনুসারে সভাপতি, সহ-সভাপতি (ঢাকা সিটি), সহ-সভাপতি (প্রত্যেক বিভাগে ১টি), মহাসচিব ১টি, কোষাধাক্ষ ১টি, সাইন্টিফিক সেক্রেটারি ১টি, অফিস সেক্রেটারি ১টি, প্রচার সম্পাদক ১টি, সমাজকল্যাণ ১টি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ১টি, প্রকাশনা সম্পাদক ১টি, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ১টি, নির্বাহী পরিষদের সদস্য ২১টি পদের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএমএ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা: মো: আব্দুর রহমান খান। তবে বিএমএ নির্বাচন উপলক্ষে ব্যাপক যানজট ও জনদুর্ভোগ হলেও এ বছর নির্বাচনে চিকিত্সক ভোটাররা ব্যাপক উত্সাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে স্বত:স্ফূর্তভাবে ভোট দেয়। সবচেয়ে লক্ষণীয় ছিল তরুণ ও মহিলা ভোটারদের নজীরবিহীন উপস্থিতি। নির্বাচন আয়োজকদের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এমন স্বত:স্ফূর্ত ভোটার উপস্থিতি অতীতে কখনও দেখা যায়নি। বিএমএ নির্বাচনের কারণে ঢাকার সিংহভাগ সরকারি ও প্রাইভেট হাসপাতাল প্রায় ডাক্তার শূন্য হয়ে পড়ে। ২-১টি বড় প্রাইভেট হাসপাতাল ছাড়া নগরীর প্রায় সব হাসপাতালে রোগীদের চিকিত্সা, অপারেশন ব্যাহত হয়।