সাহস থাকলে প্রতিহত করুন, আমরা ভীত নই

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে জাতীয় পার্টির (এ) সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পর মেয়র পদে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন এরশাদ সমর্থিত প্রার্থী মসিউর রহমান রাঙ্গা। তবে অপর দুই বিদ্রোহী প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ দুই বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও আব্দুর রউফ মানিককে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন। দল থেকে বহিষ্কারের পর সদ্য প্রতিষ্ঠিত তৃণমূল জাতীয় পার্টির জেলা আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ‘সাহস থাকলে আমাকে প্রতিহত করুন। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি (এ) এবং সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করে নির্বাচন করছেন। তাই দল থেকে তাকে বহিষ্কার করার কোন সুযোগ নেই।’ অপর বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী একেএম আব্দুর রউফ মানিক বলেন, দলীয় চেয়ারম্যান তার সমর্থিত মেয়র প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে নেয়ায় আমাদের তৃণমূল জাতীয় পার্টি (এ) থাকছে না। জাতীয় পার্টি (এ) থেকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সময় হলে স্যার আমাদের পুনরায় দলে ফিরিয়ে নিবেন। আমাকে প্রতিহতের ক্ষমতা কোন ব্যক্তিবিশেষের নেই। এতে আমরা ভীত নই।’ গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে এরশাদ বলেন, ‘রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে জড়িত তিনজন প্রার্থী নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে এবং কর্মী-সমর্থকেরাও বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তিনজন প্রার্থীই নিজেদের জাপার প্রার্থী হিসাবে পরিচয় দিচ্ছেন। ফলে ভোটাররাও বিভ্রান্ত হচ্ছে। এ কারণে রংপুরবাসীর প্রত্যাশা অনুসারে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জাপা তথা আমার সমর্থিত কোনো প্রার্থী আমি রাখছি না।’ এদিকে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মসিউর রহমান রাঙ্গা গতকাল দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এবং বিকালে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। অপর এক সংবাদ সম্মেলনে মহানগর কমিটির নেতারা বিদ্রোহী দুই মেয়র প্রার্থীকে প্রতিহতের ঘোষণা দেন। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মনিরুল ইসলাম জানান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে এবং শেষ সময় গতকাল বিকাল ৫টায় মেয়র পদে শুধু জাতীয় পার্টির (এ) প্রেসিডিয়াম সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গা এবং কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৯ জন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। তবে জাতীয় পার্টির (এ) দুই বিদ্রোহী প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। সংবাদ সম্মেলনে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, আব্দুর রউফ মানিক ও মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা পার্টির চেয়ারম্যান এবং দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও বেঈমানী করেছেন। তারা ৭১ এর রাজাকারের ভূমিকা পালন করেছেন। ‘আমি দল ও চেয়ারম্যানের নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ সংবাদ সম্মেলনে মহানগর কমিটির মহানগর জাতীয় পার্টির (এ) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা আবুল মাসুদ চৌধুরী নান্টু দলের এই অবস্থার জন্য দুই বিদ্রোহী নেতাকে দায়ী করে বলেন, জাতীয় পার্টির (এ) নাম ব্যবহার করলে তাদেরকে প্রতিহত করা হবে। মানিক ও মোস্তফাকে বেঈমান আখ্যায়িত করে নান্টু বলেন, ‘স্যারকে অনুরোধ করবো তাদেরকে যেন আর দলে ফিরিয়ে নেয়া না হয়।’