পিলখানায় লুণ্ঠিত ৫০ গ্রেনেড ও ৭২ অস্ত্রের এখনো হদিস নেই
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১২, ২২:৪১
দেশে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার প্রায় চার বছর হতে চলেছে। সে সময়ে পিলখানা থেকে লুণ্ঠিত ৫০টি গ্রেনেড ও ৭২টি আগ্নেয়াস্ত্রের আজও হদিস মেলেনি। পিলখানা থেকে তখন ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রও লুট করা হয়েছিলো। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের পক্ষে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু সংসদকে এ তথ্য জানান।
নবম সংসদের চলতি ১৫তম অধিবেশনের গতকালই ছিলো শেষ কার্যদিবস। অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী সভাপতিত্ব করেন। বিরোধী দল এই অধিবেশনেও যোগদান করেনি।
সংসদ সদস্য বেগম ফরিদুন্নাহার লাইলীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় অনাকাঙ্ক্ষিত বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় লুণ্ঠিত ও হারানো আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেনেডের সংখ্যা ৩৩২টি। গ্রেনেড লুট করা হয়েছিলো ২১১টি। পিস্তল ৮৩, রাইফেল ১৭ এবং এসএমজি পাঁচটি। লুণ্ঠিত ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে পিস্তল ১১টি, পয়েন্ট টু টু বোর গান তিনটি ও সিঙ্গেল ব্যারেল গান দুইটি। তিনি জানান, এ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে ২১০টি। এরমধ্যে গ্রেনেডের সংখ্যা হচ্ছে ১৬১টি। তিন ধরনের ৯৫টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে ৩৯টি। এখনো ৬৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫০টি গ্রেনেড উদ্ধার করা যায়নি। ব্যক্তিগত তিন ধরনের ১৬টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিলো। উদ্ধার করা হয়েছে ১০টি এবং ছয়টি উদ্ধার করা যায়নি।
সীমান্তে ১৭ বছরে ৭১৭ হত্যাকাণ্ড
জামায়াতের অনুপস্থিত সংসদ সদস্য এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সীমান্ত এলাকায় রাতের অন্ধকারে অবৈধ প্রবেশ, চোরাচালানীদের অন্তঃকলহ, সীমান্তরক্ষীদের ওপর উভয় দেশের সংঘটিত চোরাচালানীদের সংঘবদ্ধ আক্রমণের ঘটনা ঘটে। আর এসব কারণে সীমান্তে ভারতের বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়ে থাকে। তিনি আরো জানান, ১৯৯৬ থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ১৭ বছরে বিএসএফ ৭১৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে। গুলিতে আহত হয়েছে ৫৭০ জন। বাংলাদেশি নাগরিকদের বিএসএফ গুলিবর্ষণ ও নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করেছে।
জলদস্যুর ৪০ আস্তানা ধ্বংস
নাছিমুল আলম চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সাগরে জলদস্যুদের প্রায় ৪০টি আস্তানা ধ্বংস করেছে কোস্টগার্ড। বিভিন্ন অভিযানে তারা এ পর্যন্ত দুই হাজার ২৫৩ জন জলদস্যুকে আটক করেছে। এছাড়াও ২১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক হাজার ৮৫টি গুলি উদ্ধার করা হয়। জনবল সঙ্কটে ফায়ার সার্ভিস
বেগম আহমেদ নাজমীন সুলতানার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স বিভাগের চলমান স্টেশনগুলোতে বর্তমানে জনবলের ঘাটতি হচ্ছে ৪৯৬ জন। ঘাটতি জনবলের পদ সৃষ্টির একটি প্রস্তাব সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে যথাযথ বিধি-বিধান অনুযায়ী জনবল নিয়োগ করা হবে। একই বিষয়ে শাহ জিকরুল আহমেদের অপর একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা সদর ও স্থানে ১৫৬টি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
বেগম তহুরা আলীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পুলিশ বিভাগের অতিজরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ১০১টি থানা ভবন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
সংখ্যালঘু নির্যাতন ও সহিংসতা
সাধনা হালদারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন-২০০১ নির্বাচন পরবর্তী সারাদেশে ১৫ হাজারের বেশি নির্যাতন ও সহিংস ঘটনার প্রমাণ পেয়েছে। যাদের সবাই বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন। কোন ক্ষতিগ্রস্ত বা নির্যাতিত ব্যক্তি মামলা করতে চাইলে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে সহায়তা করা হবে।
মাদক ব্যবহারকারী ৪৬ লাখ
মো. হারুনুর রশিদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আজ পর্যন্ত মাদকাসক্ত লোকের সংখ্যা নিরূপণের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক কোন জরিপ পরিচালনা করা হয়নি। তবে মাদকদ্রব্য ব্যবহারকারীদের সঠিক সংখ্যা নিরূপণের জন্য জরিপ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য পর্যালোচনা করে অনুমান করা হয়, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৬ লাখ মাদক ব্যবহারকারী রয়েছে। এরমধ্যে ৮০% তরুণ, ৩৪% বেকার, অশিক্ষিত ৪০% এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া করা ৪৮%। মাদক ব্যবহারকারীদের মধ্যে ০৭% সূচের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে।