কোন্দল আর হারের শংকায় রংপুর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালো জাপা

দলীয় অন্তর্কোন্দল চরম আকার ধারণ করায় এবং দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর পরাজয় আঁচ করতে পেরে অবশেষে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে এইচএম এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা)। গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এইচ এম এরশাদ এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান রাঙ্গাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সম্প্রতি দল থেকে পদত্যাগ করে মেয়র প্রার্থী হওয়া আবদুর রউফ ও মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন এরশাদ। দুপুরে রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এরশাদ লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে দলীয় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। এ সময় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদ, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সাবেক এমপি মশিউর রহমান রাঙ্গাকে মেয়র পদে দলীয় সমর্থন দেয় জাপা। দলের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে স্থানীয় নেতাকর্মীরা গণপদত্যাগ করেন। এ পদত্যাগের নেতৃত্ব দেন দলটির অন্য দুই নেতা আবদুর রউফ ও মোস্তাফিজুর রহমান। এ দু’জন পরবর্তীতে নিজেদের মেয়র প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা দেন। পরে তাদের সঙ্গে সমঝোতার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এরশাদ। এ অবস্থায় রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে কাউকেই সমর্থন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জাপা। লিখিত বিবৃতিতে এরশাদ বলেন, ‘রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে জড়িত তিনজন প্রার্থী নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে এবং কর্মী-সমর্থকেরাও বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তিনজন প্রার্থীই নিজেদের জাপার প্রার্থী হিসাবে পরিচয় দিচ্ছেন। ফলে ভোটাররাও বিভ্রান্ত হচ্ছে। এ কারণে রংপুরবাসীর প্রত্যাশা অনুসারে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জাপা তথা আমার সমর্থিত কোনো প্রার্থী আমি রাখছি না।’ প্রসঙ্গত, দল থেকে বহিষ্কারের আগেই আবদুর রউফ ও মোস্তাফিজুর রহমান জাপা থেকে পদত্যাগ করেছেন, এমনকি পদত্যাগকারীরা ‘তৃণমূল জাতীয় পার্টি’ নামে নতুন দলের ঘোষণা দিয়ে এর একটি আহ্বায়ক কমিটিও গঠন করেছেন।